জাতিসংঘের আর্থিক সংকট শ looming, গুতেরেসের সতর্কতা

জাতিসংঘের আর্থিক সংকট শ looming, গুতেরেসের সতর্কতা

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি, জাতিসংঘ, এখন অনির্দিষ্ট আর্থিক সংকটের মুখোমুখি চলে এসেছে। এটি এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে সংস্থাটির কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে যেতে পারে বা সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সংকটের বিষয়ে মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি একটি জরুরি চিঠিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যদি তারা দ্রুত বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি, জাতিসংঘ, এখন অনির্দিষ্ট আর্থিক সংকটের মুখোমুখি চলে এসেছে। এটি এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে সংস্থাটির কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে যেতে পারে বা সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সংকটের বিষয়ে মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি একটি জরুরি চিঠিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যদি তারা দ্রুত বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না করে বা সংস্থার অর্থনৈতিক নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন না আসে, তবে খুব শিগগিরই জাতিসংঘের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়ে যেতে পারে। এই সতর্কবার্তা বিশ্বজুড়ে কূটনীতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, সংস্থার তহবিলের অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এখনই তাদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায়, জুলাই মাসের মধ্যে জাতিসংঘের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ বা তরল সম্পদ শেষ হয়ে যেতে পারে। তিনি আরও জানান, গত কয়েক বছরে সংস্থার অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, বর্তমানে তা অচলপ্রায়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের শেষে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে জাতিসংঘের মোট বকেয়া চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এই অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে কারিগরি ও ভূ-রাজনৈতিক কারক অনেকাংশে দায়ী। বিশেষ করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর থেকে অর্থ সরানো ও বিকল্প উদ্যোগ চালুর সিদ্ধান্ত এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় রাষ্ট্রগুলো যখন অর্থায়ন থেকে অনীহা দেখাচ্ছে বা বন্ধ করে দিচ্ছে, তখন তা আন্তর্জাতিক আইন মানার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বাধা সৃষ্টি করছে এবং মানবাধিকার সংরক্ষণে ব্যাপক ক্ষতি করছে। বর্তমানে জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, সদস্যদের জিডিপি ও ঋণের ওপর ভিত্তি করে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারিত হয়, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২২% ও চীন ২০% অর্থায়ন করে।

মহাসচিব তাঁর চিঠিতে সংস্থার প্রাচীন ও প্রচলিত নিয়মের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতি বছর অপ্রয়োজনীয় অর্থ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ফেরত দেওয়ার নিয়মটি এখন বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই অমতো। যেখানে সংস্থার হাতে পর্যাপ্ত অর্থই নেই, সেখানে এই অর্থ ফেরতের আইনটি সংস্থাকে এক অদ্ভুত, বিরূপ আর্থিক চক্রের মধ্যে ফেলে রেখেছে। বর্তমানে, বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের চাঁদা সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করেছে। এই পরিস্থিতিতে, বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নেতা-নায়কদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতিসংঘের অস্তিত্ব রক্ষা। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বড় দেশগুলোর রাজনৈতিক মতপার্থক্য আর অর্থনৈতিক অনিচ্ছাই এই সংস্থাকে পঙ্গুত্বের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে, যা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos