শেষ দিনে ব্যাপক কেনাকাটার উৎসব: বাণিজ্যমেলার পর্দা নামছে

শেষ দিনে ব্যাপক কেনাকাটার উৎসব: বাণিজ্যমেলার পর্দা নামছে

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ৩০তম আসরের শেষ দিন আজ। সকাল থেকে শুরু হওয়া শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় মেলা প্রাঙ্গণে উপচে পড়া দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষণীয়। দীর্ঘ এক মাস ধরে চলা এই বাণিজ্য উৎসবের সমাপ্তি ঘটছে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ও প্যাভিলিয়নের সেরা

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ৩০তম আসরের শেষ দিন আজ। সকাল থেকে শুরু হওয়া শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় মেলা প্রাঙ্গণে উপচে পড়া দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষণীয়। দীর্ঘ এক মাস ধরে চলা এই বাণিজ্য উৎসবের সমাপ্তি ঘটছে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ও প্যাভিলিয়নের সেরা অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কৃত করা হবে, সঙ্গে থাকছে দেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের উপস্থিতি।

প্রথম দিন থেকেই মেলার প্রাণ ফিরে পেয়েছে, ভোর থেকে শুরু হয় ক্রেতা-দর্শকদের উপস্থিতি। জুমার নামাজের পর বিকেলে ঢল নামে মেলায়। অনেক স্টলে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেয়েছে বিক্রেতারা। শেষ দিনের বিশেষ ডিসকাউন্টের কারণে কেনাকাটায় আগ্রহ বেশি, আর এতে বিক্রেতারাও স্বস্তি অনুভব করছেন।

বাংলাদেশ স্কয়ার ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্যাভিলিয়নে শিশু, শিক্ষার্থী ও তরুণদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই মেলায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালে Julho আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’ দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ‘এক্সপোর্ট এনক্লেভ’ এই মেলায় নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।

মেলায় মোট ৩২৪টি স্টল ও প্যাভিলিয়নে অংশ নিয়েছে ১১টি বিদেশি দেশসহ। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং Julho আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের জন্য পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিনামূল্য প্রবেশের সুবিধা রয়েছে। তবে, ঢাকা বাইপাস সড়কের ওপর দীর্ঘ যানজট কিছুটা বাধা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে কাঞ্চন সেতুর পূর্ব পাশে টোলপ্লাজা এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে আটকে থাকছে দর্শনার্থীরা, এবং নির্মাণাধীন সড়কের ধুলাবালিতে যাত্রা কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। তবে, শহর থেকে সরাসরি আসা দর্শনার্থীরা যানজট মুক্ত সড়কে স্বাচ্ছন্দ্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।

ক্রেতাদের জন্য সুবিধা হিসেবে এসেছে ফ্রি হোম ডেলিভারির পরিষেবা, যা তাদের কেনাকাটায় বেশ আকর্ষণীয়। নির্মাণের সময় ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালু থাকায় প্রবেশও সহজ এবং ভিড় ছিল কম। বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্য যেমন গৃহস্থালি সামগ্রী, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, জুয়েলারি, পাটজাত পণ্য, লেদার ও স্পোর্টস সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। কিছু স্টলে কিছুটা বেশি দামে ট্যাগ লাগানো হলেও, ছাড়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন।

শিশুদের জন্য দুটি আলাদা পার্ক থাকায় বেশ ভিড় ছিল দিনভর। নিরাপত্তার জন্য র‌্যাব, পুলিশ, আনসারসহ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা থাকেন, সিসিটিভি নজরদারি চলছিল সার্বক্ষণিক।

বিক্রেতাদের মত, দর্শনার্থীরা সরাসরি ক্রয় করছেন এবং অনেকে অগ্রিম অর্ডার দিয়ে বাড়িতে ডেলিভারির ব্যবস্থা করছেন। ঢাকার রায়েরবাগ থেকে আসা ব্যবসায়ী আবু সাইদ বলেন, প্রতিবছরই মেলা দেখার অভিজ্ঞতা ভালো হয়, এবার পরিবেশও সুন্দর।

মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের হেড অব অপারেশন আমিনুল ইসলাম হৃদয় জানান, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি দর্শনার্থী মেলায় টিকেট কেটে প্রবেশ করেছেন, যা মেলার সফলताओं সাক্ষ্য দেয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, শীতের মরশুম উপেক্ষা করে দর্শকদের আগ্রহ ছিল অপ্রতিরোধ্য, শেষে মেলা আরও জমে উঠেছে। স্বাগতিক ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এই প্রদর্শনী সফল হওয়ায় সবাই সন্তুষ্ট।

সব মিলিয়ে, শেষ দিনটির জমজমাট পরিবেশ আর ছাড়ের চাপে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা যেন এক প্রাণবন্ত কেনাকাটার উৎসবে পরিণত হয়েছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos