গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড দেশের তৈরি পোশাক খাতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বব্যাপী মাইলফলক স্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ‘লিড প্লাটিনাম’ সার্টিফিকেশন লাভ করেছে এই কারখানা। এ স্বীকৃতি পেতে হ্যামস গার্মেন্টসের স্কোর ছিল ১০৮ কাছাকাছি সর্বোচ্চ ১১০ নম্বরের মধ্যে। এর মাধ্যমে বিশ্বে সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত লিড-সার্টিফায়েড পোশাক কারখানার
গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড দেশের তৈরি পোশাক খাতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বব্যাপী মাইলফলক স্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) থেকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ‘লিড প্লাটিনাম’ সার্টিফিকেশন লাভ করেছে এই কারখানা। এ স্বীকৃতি পেতে হ্যামস গার্মেন্টসের স্কোর ছিল ১০৮ কাছাকাছি সর্বোচ্চ ১১০ নম্বরের মধ্যে। এর মাধ্যমে বিশ্বে সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত লিড-সার্টিফায়েড পোশাক কারখানার মর্যাদা পেয়েছে এই প্রতিষ্ঠান, যা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।
এছাড়া, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তিনটি নতুন পোশাক কারখানা লিড সার্টিফিকেশন লাভ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গাজীপুরের ইকোট্রিমস বাংলাদেশ লিমিটেডের ইউনিট-১ এবং নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ইউনিট-১, যা বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পের অগ্রগতি আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
ইকোট্রিমসের এই কারখানা ভবনের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ক্যাটাগরিতে ৭০ পয়েন্ট পেয়ে ‘গোল্ড’ স্তরের সনদ অর্জন করেছে। অন্যদিকে, নাফা অ্যাপারেলসের ইউনিট-১ নির্মাণ ক্যাটাগরিতে ৬৫ পয়েন্ট পেয়ে একই ‘গোল্ড’ সনদ লাভ করেছে। এই তিনটি কারখানা যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে দেশে মোট লিড সার্টিফিকেড কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭৩, এর মধ্যে ১১৫টি প্লাটিনাম এবং ১৩৯টি গোল্ড স্তরের।
বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফিকেড কারখানার মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের রয়েছে ৬৯টি, যা বিশ্বের পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে দেশের শক্ত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। বিশ্বব্যাপী যখন জলবায়ু পরিবর্তন, সম্পদ সংরক্ষণ ও ইএসজির মানদণ্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তখন এই অর্জন বাংলাদেশের শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির দিক থেকে এক বিরাট অগ্রগতি হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্য প্রমাণ করে বাংলাদেশীর শিল্পক্ষেত্র এখন শুধুই পশ্চাদপদ নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের মূলপ্রবাহে প্রবাহিত। ইতোমধ্যে শতাধিক পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা চালু হয়েছে, যা দেশের রূপান্তরকে আরও সুদৃঢ় করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণের জন্য চলমান প্রস্তুতি, সম্ভাব্য কার্বন বিধিনিষেধ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পরিবর্তনের যুগে এই টেকসই নেতৃত্ব হলো একান্তই অত্যাবশ্যক। হ্যামস গার্মেন্টসের এই সাফল্য শুধু একটি বিস্ময় নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে দিয়েছে। এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাংলাদেশ শুধু বৈশ্বিক প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে না, বরং নিজেকে তুলে আনচ্ছে টেকসই শিল্পের নতুন উচ্চতায়।











