ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বেপর্দা নারীদের পাশে বসে সেলফি তুলেছেন, যা ইসলামের প্রকৃত আদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা মহিলা বিএম কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেছেন। এখানেই লালমনিরহাট-১ আসনে হাতপাখা
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বেপর্দা নারীদের পাশে বসে সেলফি তুলেছেন, যা ইসলামের প্রকৃত আদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা মহিলা বিএম কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেছেন। এখানেই লালমনিরহাট-১ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী ফজলুল করীম শাহারিয়ারের জন্য বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে চরমোনাই পীর সরাসরি জামায়াতের প্রতি তীব্র সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, তারা মুখে ইসলামের কথা বললেও বাস্তবে শরিয়া আইনের ভিত্তিতে দেশের শাসন ব্যবস্থা চালাতে সরকারের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়। জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত আচরণও এর দৃষ্টান্ত; তিনি অভিযোগ করেন, ডা. শফিকুর রহমান নারীদের সাথে ছবি তোলার সময় বেপর্দা পরিবেশ তৈরি করেন, যা ইসলামের মূল মূল্যবোধের পরিপন্থী। তিনি পরিষ্কার বলেন, ইসলামী নাম ব্যবহার করে তারা সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য এ ধরনের কুটনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
রেজাউল করীম আরও যোগ করেন, জামায়াত নিজেকে এখন আর সম্পূর্ণরূপে একটি ইসলামী দল হিসেবে দাবি করে না। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, জামায়াতের আমির শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, এমনকি তাদের জোটসঙ্গী কর্নেল (অব.) অলী আহমদসহ অন্য প্রার্থীরাও বিভিন্ন সময় জামায়াতকে সাধারণ রাজনৈতিক দল হিসেবেই উপস্থাপন করেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, এখন তাদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক শুদ্ধতা অনেকটাই লোপ পেয়েছে।
অতীতের কিছু ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যখন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দেশের জঙ্গিবাদ নির্মূলের দাবি করছিল, তখন জামায়াতের নায়েবে আমির আবু তাহের মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আবু তাহের সেখানে গিয়ে জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্বের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেয়া এবং ইসলামী আন্দোলনকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপনের অপপ্রয়াস চালিয়েছেন। এসব মিথ্যাচার দেশের শান্তি ও ইসলামী ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সত্যিকার ইসলাম প্রতিষ্ঠা কখনো সম্ভব নয় বলে তিনি দৃঢ় মন্তব্য করেন।
সবশেষে, মুফতী রেজাউল করীম ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সরকারের ক্ষমতায় আসলে দেশের ওপর পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ ও শরিয়া ভিত্তিক ইনসাফপূর্ণ শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে তারা যেন এ পরিকল্পনায় সহায়তা করেন, সে আহ্বান জানান তিনি। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট-১ আসনের প্রার্থী মুফতী ফজলুল করীম শাহারিয়ার। আরও বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক সুলতান মাহমুদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা সবাই আসন্ন নির্বাচনে ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সকলের সহায়তা ও সহযোগিতা কামনা করেন।











