বাংলাদেশে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দেশের শোকের ছায়া নেমে আসায় এ বছর বাণিজ্য মেলার আয়োজন দুই দিন পিছিয়ে ৩ জানুয়ারি শুরু হয়। সেই সঙ্গে শীতপ্রবাহের কারণে গত কয়েক দিন থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না, কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে রূপগঞ্জের পরিবেশ। এরই প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাতে আজ তৃতীয় দিনেও প্রত্যাশিত ক্রেতা ও দর্শনার্থীর
বাংলাদেশে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দেশের শোকের ছায়া নেমে আসায় এ বছর বাণিজ্য মেলার আয়োজন দুই দিন পিছিয়ে ৩ জানুয়ারি শুরু হয়। সেই সঙ্গে শীতপ্রবাহের কারণে গত কয়েক দিন থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না, কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে রূপগঞ্জের পরিবেশ। এরই প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাতে আজ তৃতীয় দিনেও প্রত্যাশিত ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা খুবই কম। প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশার কারণে সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যানবাহনে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে, ফলে ঘটে অনেক দুর্ঘটনা। সব মিলিয়ে মেলায় লোকসমাগম মোটামুটি কম। তবে বিক্রেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, রোদ উঠলে এবং কুয়াশা কমলে হয়তো দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, ফলে বিক্রিও বাড়বে।
ধানমন্ডির ছালমা বেগম বলেন, ‘৩ বছর ধরে আমি বাণিজ্য মেলায় আসছি। এর আগে বিআরটিসির বাস সার্ভিস খুবই খারাপ ছিলো, ধাক্কাধাক্কি করে বাসে উঠতে হতো। তবে এবার খুবই ভালো সিস্টেম চালু হয়েছে।’
অপরদিকে, মেলার তৃতীয় দিন হলেও আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে ক্রেতার সংখ্যা কম বলে জানানো হয়েছে। অধিকাংশই শুধু ঘুরে দেখা বা ফটো সেশন করতে আসছেন। মেলা ঘুরতে এসে সিয়ামের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘শোনা গেছে এইবার বাণিজ্য মেলা নানা রঙে সেজেছে, তাই উপভোগ করতে এসেছি ফটো সেশন করার জন্য।’ তিন বন্ধুর ছেলে শুভ, সাদেক ও অসীমও মেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং ছবি তুলছেন।
গত বছর মেলার উদ্বোধনে প্রায় তিন হাজার মানুষ টিকিট কিনে প্রবেশ করেছিলেন। এ বছর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৭৪৩ জন। খুব ভালো ব্যবসার প্রত্যাশায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখনো ঘুরে ঘুরে পণ্য দেখছেন দর্শনার্থীরা, শিগগিরই মূল বেচাকেনা শুরু হবে।
মেলাকে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আছে ২৩৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা, পাশাপাশি থাকছে পাঁচটি ওয়াচ টাওয়ার। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সতর্ক থাকছে পুলিশি টিম। এছাড়া গেট ইজারাদার ইজরেক্টেড কোম্পানি ইনফোটেক লিমিটেডের (হেড অফ অপারেশন এস এম আমিনুল ইসলাম) দাবি, শীত আর কুয়াশা উপেক্ষা করে এখনও পর্যন্ত ২৭ হাজার ৩৭২ জন দর্শনার্থী মেলায় এসেছেন। তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশি উন্নত হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়, পরিষ্কার-পরিছন্নতায়ও নজরদারি থাকায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ইনশা আল্লাহ।’
মেলার কিছু স্টল এখনও নির্মাণাধীন, যেখানে কারিগররা কাজ করছেন। হাতুড়ির আওয়াজ শোনা যায়, কেউ কাঠের কাজ করছেন, কেউ স্টল সাজানোর কাজে ব্যস্ত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মেলার প্রাঙ্গণ ঝরম relais করছে, ছবি তুলছেন দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীরা আশা করছেন, এই সুন্দর পরিবেশটা দীর্ঘদিন চলুক।
মেলার আয়োজন করছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অপ্রীতিকর কিছু এড়াতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—সাতশতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন, ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রস্তুত। শিশুদের জন্য রয়েছে শিশু পার্ক।
নুডলসের সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর পরিস্থিতি খুব ভালো ছিল না, কিন্তু এবার দেশের নতুন স্বাধীনতার কারণে আশা করছি, এইবার বেশ ভালো বেচাকেনা হবে।’ অন্যদিকে, নাভানা ফার্নিচারের বিক্রয় প্রতিনিধি আরিফুল আলম বলছেন, ‘আশা করি এবার ভালো বিক্রি হবে। দর্শনার্থীরা আসছেন, তবে বেশির ভাগ সময় ফটো সেশন ও ছবি তোলাতেই ব্যস্ত।’ ভারত থেকে আসা শীতের পোশাক বিক্রেতা দীপক চন্দ্র সাহা জানান, ‘স্টল ও প্যাভিলিয়নের খাবার ও থাকা-খাওয়ার জন্য বেশ সমস্যায় পড়ছি। কম দামে খাবার থাকলে লাভ হত। বেশির ভাগেই বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলছেন, ‘তবে পুরোপুরি ব্যবসায় বেশ আশাবাদ আছি।’
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান জানাচ্ছেন, ধুলাবালির সমস্যা সহজে সমাধান করতে পানি দেওয়া হচ্ছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিবেশের উন্নতি ও সচল অবস্থায় কেনাবেচা আরও বৃদ্ধি পাবে।











