আদর্শিক বিভ্রান্তি ও ডানপন্থী তোষণের অভিযোগে এনসিপি ছাড়লেন সৈয়দা নীলিমা দোলা

আদর্শিক বিভ্রান্তি ও ডানপন্থী তোষণের অভিযোগে এনসিপি ছাড়লেন সৈয়দা নীলিমা দোলা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ই দলের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব যেন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক সৈয়দা নীলিমা দোলা দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং টেকনিক্যালি তার পদত্যাগপত্রও জনসম্মুখে তুলে ধরেন। নীলিমা দোলা ফরিদপুর জেলা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ই দলের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব যেন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক সৈয়দা নীলিমা দোলা দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং টেকনিক্যালি তার পদত্যাগপত্রও জনসম্মুখে তুলে ধরেন। নীলিমা দোলা ফরিদপুর জেলা মহিলা লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, এবং তিনি জুলাইয়ের পর থেকে দলের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত দলের আদর্শিক অবস্থান ও সাম্প্রতিক রাজনীতির ধারা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এখন এনসিপির জন্য মধ্যপন্থী বা সেন্ট্রিস্ট ধারার রাজনীতি তৈরি সম্ভব নয় বলে তাঁর মনে হয়।

নীলিমা দোলার অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল দলটির সাম্প্রতিক ডানপন্থী ঝোঁক এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট। তিনি দাবি করেন, এনসিপি এখন পুরোপুরি ডানপন্থী ঘরানায় চলে গেছে এবং এই ধারার রাজনীতিকে দলের নেতারা সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে চলেছেন। তাঁর মতে, জামায়াতের সঙ্গে এই জোট কোনো কৌশলগত সামাজোতা নয়, বরং নেতাদের স্পষ্ট চক্রান্তের মাধ্যমে দলটি সাধারণ কর্মীদের চোখে ধূলা দেওয়ার চেষ্টা। এই প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন পত্র দেওয়ার নামে ব্যাপক প্রতারণার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। যে নতুন পরিস্থিতিতে দলে থেকে অবস্থান বদল করতে চাচ্ছেন, তাদের ‘বামেরপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করার অপপ্রচেষ্টা তিনি দেখছেন একটি সাজানো গেমের অংশ, যাতে দলের পরিবর্তনের বৈধতা দিতে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।

নিকটজনদের ম্যাওনীয়ো ও শ্রমিক, আদিবাসী, নারী, শিশু ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু প্রান্তিক মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করে চলছিলেন সেই সৈয়দা নীলিমা দোলা। তাঁর পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন, গত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর চলা নির্যাতন ও অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে দলের মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে দলের উনুনমুখো ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তিনি মনে করেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি আস্থা কমছে, কারণ নেতৃত্বের সমস্ত হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে গত কয়েক মাসে তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে।

সবশেষে সৈয়দা নীলিমা দোলা দলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি এক কঠিন বার্তা রেখে বলেন, আগামী ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হওয়ার অভ্যুত্থান মূর্তিমন্ত না হলেও এর অন্তর্নিহিত সত্য ও ফলাফল নিয়ে তারা গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। তিনি আবারো দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করেন যে, এই অভ্যুত্থান কোনও ধর্মীয় বিপ্লব ছিল না এবং এর সুবিধা ঘরে তুলতে ধর্মীয় রাজনীতিকে ব্যবহার করে শহীদদের আত্মদানকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপি এখন এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর জন্য ধর্মীয় মোড়ক ধরে পুরানো আওয়ামী বয়ানকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার পথে হাঁটছে। তিনি দলের বর্তমান নেতৃত্বের জন্য শুভকামনা জানালেও বিশ্বাস করেন, দেশের সাধারণ মানুষ আসন্ন কঠিন সময়ের মধ্যে যথাযথ জবাব দেবে। তীব্র রাজনৈতিক আন্দোলন ও পরিবর্তনের এই অবস্থায়, নীলিমা দোলা মনে করেন, যাঁরা সত্যিকার অর্থে দেশের জন্য স্বচেষ্টার চেষ্টা করছেন, তাঁদের জন্য এই সংগ্রামের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos