এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন মুরসালীন আপসের অভিযোগে

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন মুরসালীন আপসের অভিযোগে

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আবারও গভীর বিভাজন দেখা দিয়েছে। এই বিভাজনের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন। তিনি তার পুরানো উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার অংশীদারদের সঙ্গে আপসের অভিযোগ তুলে আজ দল থেকে পদত্তাগ ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজ নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানান, তিনি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আবারও গভীর বিভাজন দেখা দিয়েছে। এই বিভাজনের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন। তিনি তার পুরানো উপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার অংশীদারদের সঙ্গে আপসের অভিযোগ তুলে আজ দল থেকে পদত্তাগ ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজ নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানান, তিনি সকল প্রকার দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। মুরসালীন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এনসিপি নতুন সংবিধান, নতুন রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা বা নতুন বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গঠিত হলেও, বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সেই লক্ষ্য থেকে তারা বিচ্যুত হয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশকে উপনিবেশিক শাসনমুক্ত করে মুক্তির সংগ্রামই মূল উদ্দেশ্য ছিল, কিন্তু এখন দলটি সেই লক্ষ্য থেকে দুরে সরে গেছে বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

মুরসালীন আরও বলছেন, ব্রিটিশ আমল থেকে বর্তমান প্রজন্ম পর্যন্ত চালু থাকা শাসনব্যবস্থা মূলত জনবিরোধী ও নিপীড়নমূলক। তিনি মনে করেন, ১৯৭১ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরের সময়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমিক ও নারীরা ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার আশা করেছিল, কিন্তু এনসিপি সেই প্রত্যাশাকে পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। বরং এই মহান নারী-শ্রমিকেরা পর্দার আড়ালে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই মাসের ঘোষণাপত্র তৈরির সময় থেকেই দলটি আপসকামী হয়ে পড়েছে। প্রতিশ্রুতি ছিল যে, দলীয় নীতিতে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, কিন্তু পরে দলটির দুর্বল অবস্থানের কারণে পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সঙ্গে কোলাবরেশনে যেতে বাধ্য হয়। মুরসালীন মনে করেন, জনগণকে আসলে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে না পারাই দলের দুর্বলতার মূল কারণ।

দীর্ঘ দেড় দশকের সাংবাদিকতা ও লেখালেখির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তার পুরানো ধারারা এখন একেবারেই আলাদা হয়ে গেছে। তার পরিবারের ঐতিহ্য ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলছেন, এই আদর্শিক লড়াই চালিয়ে যেতে চান। তবে, তিনি সতর্ক করে দেন যে, এনসিপির বর্তমান পথে তার চলাটা সম্পূর্ণ আলাদা। রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছি বলে মনে করছেন না, বরং পুনরায় জনমত গড়ার জন্য ভবিষ্যতে রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শীর্ষ নেতাদের একের পর এক পদত্যাগের এই ঘটনা দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট ও আদর্শিক বিচ্যুতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, খুব শীঘ্রই আবারো সবাইকে দেখার জন্য তার পথচলা অব্যাহত থাকবে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos