নোবেলজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি গ্রেপ্তার

নোবেলজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি গ্রেপ্তার

ইরানের বিখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদিকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবর অনুযায়ী, গত শুক্রবার ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুলিশ সদস্যরা তাকে তার বাসস্থান থেকে তুলে নেয়। এই ঘটনার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে জানায়, যারা এই গ্রেপ্তারের জন্য উদ্বিগ্ন। নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা নার্গিস মোহাম্মদীর অচেনা

ইরানের বিখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদিকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খবর অনুযায়ী, গত শুক্রবার ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুলিশ সদস্যরা তাকে তার বাসস্থান থেকে তুলে নেয়। এই ঘটনার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে জানায়, যারা এই গ্রেপ্তারের জন্য উদ্বিগ্ন।

নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা নার্গিস মোহাম্মদীর অচেনা গ্রেপ্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তারা আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানায়, নার্গিসের স্থান নির্ণয় সুষ্ঠুভাবে করুন, তার দেহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন এবং তাকে অবিলম্বে শর্তহীন মুক্তির ব্যবস্থা করুন।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে নারী ও মানবাধিকার আন্দোলনে তার অসীম সাহসিকতার জন্য মোহাম্মদি এই পুরস্কার লাভ করেন। ২০২১ সাল থেকে তেহরানির এভিন কারাগারে বন্দি থাকার পর, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিশেষ পরিস্থিতিতে তিন সপ্তাহের জন্য তাকে জেল থেকে অস্থায়ী মুক্তি দেওয়া হয়।

গত সপ্তাহে, তার অফিসে একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়, সেটি আইনজীবী খোসরো আলিকর্দির। তার মৃত্যু কিসের কারণে হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। আলিকর্দির স্মরণসভায় উপস্থিত থাকা এক ব্যক্তির বিবৃতিতে জানা যায়, তার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অধিকন্তু, নার্গিসের সাথে আরও বেশ কয়েকজন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তারা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু চান’ ও ‘ইরান দীর্ঘজীবী হোক’—এমন নানা অবাধ্য স্লোগান দিয়েছিলেন, যা সরকার ভয়েস ও প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

নার্গিসের স্বামী তাগি রহমানি বলেছেন, ‘তারা নার্গিসকে সহিংসভাবে গ্রেপ্তার করেছে। এই কাজটি মানবাধিকার আইনের পরিপন্থি এবং আমি দেখেছি, আইনজীবীর ভাই এটাকে প্রত্যক্ষ করেছেন।’

তিনি আরও জানান, মোহাম্মদি ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইরানি সরকারের উপর অপ্রতিরোধ্য চাপ ও দমন-পীড়ন বৃদ্ধির অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি, সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনে এক নিবন্ধে তুলে ধরেছেন, কিভাবে ইরান ব্যক্তিগত জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে। নজরদারি, সেন্সরশিপ, নির্বিচার গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও সহিংসতার মাধ্যমে জনগণের শান্তি বিঘ্নিত করছে।

গত এক বছরে, নার্গিস বাধ্য হন হিজাব পরা থেকে অনিচ্ছুক হয়ে উঠেন, যেখানে তিনি দেশের বিভিন্ন শহরে সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় লড়াইয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। শাসকেরা তাকে মোট ১৩ বার গ্রেপ্তার করেছে, পাঁচবার দোষী সাব্যস্ত করেছে, যার ফলে তাকে ৩১ বছর কারাদণ্ড ও ১৫৪টি বেত্রাঘাত দেওয়া হয়েছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos