যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নিয়ে ইসরায়েলে ক্ষোভ ও বিস্ময়

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নিয়ে ইসরায়েলে ক্ষোভ ও বিস্ময়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আকস্মিকভাবে ঘোষণা করা যুদ্ধবিরতির খবর ইসরায়েলে ব্যাপক বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেক ইসরায়েলি নাগরিক জানতে পারেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও তেহরান এক মৌলিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন— যা শুধু কয়েক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত কল্পনাতীত মনে হচ্ছিল। এই যুদ্ধবিরতি এমন সময় এলো যখন ইসরায়েলে সামরিক অভিযানের জন্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আকস্মিকভাবে ঘোষণা করা যুদ্ধবিরতির খবর ইসরায়েলে ব্যাপক বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেক ইসরায়েলি নাগরিক জানতে পারেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও তেহরান এক মৌলিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন— যা শুধু কয়েক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত কল্পনাতীত মনে হচ্ছিল।

এই যুদ্ধবিরতি এমন সময় এলো যখন ইসরায়েলে সামরিক অভিযানের জন্য জনমত অনেকটাই সমর্থন পাচ্ছিল। হঠাৎ এই বিরতিতে অনেকেই ভাবছেন कि ইরান হয়তো পুরোপুরি দুর্বল না হয়ে আবার শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় হুমকি হিসেবে ফিরে আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি নিশ্চিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে ইরান আর কখনো পারমাণবিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হয়ে উঠতে না পারে। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এই যুদ্ধবিরতি আগে থেকেই ইসরায়েল সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হয়েছে।

তবে, ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতারা এই দাবি কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিড এই সিদ্ধান্তকে ইসরায়েলের ইতিহাসে ‘সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ তোলে, দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে ইসরায়েলকে কার্যত বাইরে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ক্ষতি করতে পারে।

অন্যদিকে, ডানপন্থী রাজনীতিক অ্যাভিগডর লিবারম্যান বলেন, এই যুদ্ধবিরতি ইরানের ধর্মীয় শাসকদের আবারো সংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে বড় সংঘাতের আশংকা দেখা দিতে পারে।

বামপন্থী নেতা আইর গোলান অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু জনগণের কাছে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’-এর প্রতিশ্রুতি দিলেও মূলত এটি একটি বড় কৌশলগত ব্যর্থতা। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি নেতা আয়মান ওদেহ এই যুদ্ধ থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন: শক্তির সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তির প্রয়োজনীয়তা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

অপরদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, রাজনৈতিক নির্দেশনা অনুযায়ী তারা ইরানে হামলা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে, লেবাননে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং বিশেষ করে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে মুখোমুখি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে, এই যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও অঞ্চলটিতে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমন হয়নি।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos