ভূপাতিত করা মার্কিন বিমানের ছবি প্রকাশ ইরানের স্পিকারের

ভূপাতিত করা মার্কিন বিমানের ছবি প্রকাশ ইরানের স্পিকারের

ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ হিসেবে ভূপাতিত একটি বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রোববার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত ওই ছবিতে দেখা যায়, একটি বিশালাকৃতির বিমান অগ্নিকাণ্ডে পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। এই ছবি প্রকাশের পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনকে তীব্র কটাক্ষ করে গালিবাফ

ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ হিসেবে ভূপাতিত একটি

বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার

মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রোববার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক

টুইটার) প্রকাশিত ওই ছবিতে দেখা যায়, একটি বিশালাকৃতির বিমান অগ্নিকাণ্ডে পুরোপুরি

ভস্মীভূত হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। এই ছবি প্রকাশের পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনকে তীব্র

কটাক্ষ করে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন ‘বিজয়’ বা বিমান হারানোর ঘটনা আরও

তিনবার প্রত্যক্ষ করে, তবে তাদের সামরিক দম্ভ পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসফাহান প্রদেশে

মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি সি-১৩০ (C-130) সামরিক পরিবহন বিমান ভূপাতিত করেছে

ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। উল্লেখ্য যে, এই বিশাল পরিবহন বিমানটি মূলত গত

শুক্রবার বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুদের উদ্ধার অভিযানের

অংশ হিসেবে ওই এলাকায় অবস্থান করছিল। উদ্ধার অভিযানে আসা এই বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু

করার মাধ্যমে ইরান তার আকাশসীমায় যেকোনো ধরণের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের

জানান দিল।

পরিবহন বিমানের পাশাপাশি মার্কিন বাহিনীর আরও বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে

ইরানের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের এক মুখপাত্র রোববার জানিয়েছেন

যে, সি-১৩০ বিমানটি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের দুটি অত্যাধুনিক ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার

ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে তাদের বাহিনী। উদ্ধারকারী দলের ওপর এই বিধ্বংসী আক্রমণ

মূলত একটি সুপরিকল্পিত যৌথ অভিযানের ফল। মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনীর

এই উদ্ধার মিশন নস্যাৎ করতে ইরানের অ্যারোস্পেস ইউনিট, স্থল বাহিনী, আধাসামরিক

বাহিনী বাসিজ ও পুলিশ কমান্ডের পাশাপাশি ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটও

সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।

এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত শুক্রবার সকালে, যখন একটি মার্কিন এফ-১৫

যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ওইদিন বিমানে থাকা একজন পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপর

ক্রু সদস্য নিখোঁজ ছিলেন। তাঁকে উদ্ধারের জন্য মার্কিন বাহিনী যখন সর্বাত্মক চেষ্টা

চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই ইরানের পক্ষ থেকে এই শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণের খবর এলো। যদিও

পরবর্তী তথ্যানুযায়ী ওই নিখোঁজ ক্রুকে দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে, তবে উদ্ধার

অভিযানে আসা একাধিক এয়ারক্রাফট হারিয়ে মার্কিন বাহিনীকে বড় ধরণের কৌশলগত ও আর্থিক

ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলো।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের স্পিকারের পক্ষ থেকে সরাসরি ধ্বংসাবশেষের ছবি

প্রকাশ করা মূলত একটি শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা প্রোপাগান্ডা কৌশলের অংশ।

এর মাধ্যমে তেহরান বিশ্ববাসীকে এটিই বোঝাতে চাইছে যে, আধুনিক মার্কিন প্রযুক্তি

তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে কতটা নাজুক। তবে ওয়াশিংটন বা পেন্টাগনের

পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সি-১৩০ বা ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার হারানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক

কোনো স্বীকৃতি মেলেনি। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আকাশপথে এমন

পাল্টাপাল্টি ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে

ঠেলে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে ইসফাহানের এই ধ্বংসাবশেষের ছবি ইরান-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধে

নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos