মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানি ভূখণ্ডে এক দুঃসাহসিক ও রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ দ্বিতীয় মার্কিন সেনাকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। গত শুক্রবার ইরানি হামলায় ভূপাতিত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় এই ক্রুকে উদ্ধারের বিষয়টি রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানানো হলেও, উদ্ধারকৃত
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানি ভূখণ্ডে এক দুঃসাহসিক ও
রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ দ্বিতীয় মার্কিন সেনাকে উদ্ধার করেছে
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। গত শুক্রবার ইরানি হামলায় ভূপাতিত হওয়া এফ-১৫
যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় এই ক্রুকে উদ্ধারের বিষয়টি রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে নিশ্চিত
করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন সামরিক
কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানানো হলেও, উদ্ধারকৃত সেনার বর্তমান শারীরিক অবস্থা
কিংবা তিনি জীবিত না মৃত—সে বিষয়ে এখনো এক ধরনের রহস্য বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে, যখন ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক
রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫-ই
স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। সাধারণত এই ধরণের যুদ্ধবিমানে
দুইজন ক্রু অবস্থান করেন, যাঁদের মধ্যে একজন পাইলট এবং অন্যজন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ
কর্মকর্তা (ওয়েপন সিস্টেম অফিসার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমানটি বিধ্বস্ত
হওয়ার পরপরই গত শুক্রবারই এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের
স্পেশাল ফোর্স। তবে দ্বিতীয় ক্রু নিখোঁজ থাকায় তাঁর সন্ধানে শুরু হয় বিশাল এক
তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন দ্বিতীয় সেনাকে উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা
গ্রহণ করে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে গত দুই দিন ধরে ইরানের আকাশে অসংখ্য নজরদারি
বিমান মোতায়েন করা হয়েছিল। এমনকি মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডোরা সরাসরি ইরানি
ভূখণ্ডে প্রবেশ করে তল্লাশি চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে
একটি মার্কিন হেলিকপ্টার পাইলটের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেও ইরানি সেনাদের তীব্র
প্রতিরোধের মুখে সেটি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিল। তবে দমে না গিয়ে গোয়েন্দা তথ্যের
ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে অবশেষে আজ দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকেও নিজেদের হেফাজতে নিতে
সক্ষম হয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এদিকে নিখোঁজ এই মার্কিন সেনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক ধরণের
মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে এই ক্রুকে ধরিয়ে দেওয়ার
জন্য বা বন্দী করার জন্য ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
তেহরানের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে উৎসাহিত করা হয়েছিল যেন কোনোভাবেই ওই মার্কিন
সেনা পালিয়ে যেতে না পারেন। ইরানের এই প্রকাশ্য পুরস্কার ঘোষণার মধ্যেই মার্কিন
বাহিনীর উদ্ধার অভিযান সফল হওয়াকে ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কৌশলগত বিজয় হিসেবে
দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
উদ্ধারকৃত এই দুই সেনা বর্তমানে কোথায় আছেন বা তাঁদের শারীরিক আঘাত কতটা গুরুতর, সে
বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের বিপরীতে ইরানের এই প্রতিরোধ এবং
পাল্টা উদ্ধারের ঘটনাগুলো ওই অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ
করে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সরাসরি ইরানি সীমানায় প্রবেশ করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা দুই
দেশের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশ্ববাসী এখন
তাকিয়ে আছে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তেহরানের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার দিকে।











