ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় সংঘাতের মাত্রা সর্বোচ্চ পৌঁছেছে যখন, ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে একযোগে ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার ভোরের দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে তেহরান ছাড়াও আহভাজ, শিরাজ, ইসফাহান, কারাজ এবং কেরমানশাহর বিভিন্ন কৌশলগত ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আকাশপথের

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় সংঘাতের মাত্রা সর্বোচ্চ পৌঁছেছে যখন, ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে একযোগে ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার ভোরের দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে তেহরান ছাড়াও আহভাজ, শিরাজ, ইসফাহান, কারাজ এবং কেরমানশাহর বিভিন্ন কৌশলগত ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আকাশপথের নিয়মিত হামলা এখন যেন দিনদিন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সাধারণ জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত করছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো এই অভিযানে সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে টার্গেট করা হয়েছে। তেহরানে অবস্থিত একটি আধুনিক ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানায় বিমান হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, কারণ এটি মূলত ক্যানসার রোগীদের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ প্রস্তুত করে। এছাড়াও, ইসফাহান ও পূর্ব ইরানের বোরোজেনের বৃহৎ দুটি স্টিল কারখানা, বন্দর আব্বাসের সমুদ্রবন্দরে হামলা, বুশেহরের একটি গবেষণা কেন্দ্র এবং পশ্চিম ইরানের বেশ কিছু আবাসিক ভবনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানি সরকার এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞকে মানবিক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলছে, এই হামলাকে তারা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক চরম ‘রেড লাইন’ হিসেবে মনে করছে। এই হামলার জবাবে, তারা বৃহৎ পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতিও নিচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, যুদ্ধ আইন লঙ্ঘন করে এই ধরনের হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং এর জন্য যারা দায়ী, তাদের কঠোর শাস্তি পেতেই হবে। খুবই ক্ষোভের সাথে মনে করছে ইরানি জনগণ যে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের কারখানায় হামলা তাদের প্রতিরোধে প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়েছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বক্তব্যে বেশ কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করেছে এবং এই অপরাধের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। তিনি আরও দুর্দান্তভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের হাতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সেনা বাহিনী, আর এই বর্বর আচরণের জন্য তাদের কঠোর শাস্তি নির্ধারিত। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, তারা নিরীহ ফিলিস্তিনিদের মতো নিরস্ত্র নয়, বরং প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত।

এই সাম্প্রতিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এনেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমাগত বিমান হামলা, পাশাপাশি ইরানের কঠোর প্রতিশোধমূলক হুঁশিয়ারির মধ্যে, বিশ্ব সম্প্রদায় ক্রমশ গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বিশ্ব অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছে বিশ্লেষকরা। এখনই সম্ভবত, তেহরানের পক্ষ থেকে একটি বড় প্রতিশোধের হামলা আসন্ন বলেও ধারণা করছেন অনেকরা।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos