পাকিস্তানসহ চার দেশের মধ্যস্থতায় কমছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ উত্তেজনা

পাকিস্তানসহ চার দেশের মধ্যস্থতায় কমছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ উত্তেজনা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র যুদ্ধ উত্তেজনা প্রশমনে আশার আলো দেখাচ্ছে আঞ্চলিক চার দেশের বলিষ্ঠ মধ্যস্থতা। পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক এবং কাতারের সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতায় দুই বৈরী শক্তির মধ্যে চলমান সংঘাতের রেশ কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যদিও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এখনো কোনো সরাসরি টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি, তবে এই প্রভাবশালী দেশগুলোর মাধ্যমে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র যুদ্ধ উত্তেজনা প্রশমনে আশার

আলো দেখাচ্ছে আঞ্চলিক চার দেশের বলিষ্ঠ মধ্যস্থতা। পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক এবং

কাতারের সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতায় দুই বৈরী শক্তির মধ্যে চলমান সংঘাতের রেশ কিছুটা

কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যদিও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এখনো কোনো সরাসরি টেবিল

বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি, তবে এই প্রভাবশালী দেশগুলোর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে উভয় পক্ষের

মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান চলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন

অনুযায়ী, এই দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে দুই পক্ষের সঙ্গে

যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তাঁরা পৃথকভাবে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করে উত্তেজনার পারদ নামিয়ে আনার চেষ্টা

চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক

গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও

গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার যে পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত

স্থগিত রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য

অগ্রগতি হয়েছে এবং সংঘাত নিরসনে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউসের

এই দাবিকে পুরোপুরি মেনে নেয়নি তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে

জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। তাদের মতে,

কিছু আঞ্চলিক বন্ধু রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে উত্তেজনা কমাতে চেষ্টা চালাচ্ছে এবং

যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ও কৌশলগত কারণে তাদের সামরিক অবস্থান

কিছুটা পরিবর্তন করছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা হিসেবে ইরানও মার্কিন ও মিত্রদের জ্বালানি

স্থাপনায় ভয়াবহ হামলার হুমকি দিলে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে এক চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে

পড়ে। এই চরম উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল বিশ্ব জ্বালানি বাজারে, যার ফলে

আন্তর্জাতিক তেলের দাম এবং শেয়ারবাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল

দিতে গত রবিবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান,

পাকিস্তান, তুরস্ক এবং কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে

তিনি এই সংঘাত যেন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সংযত হওয়ার আহ্বান

জানান।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের আস্থার

সংকট থাকলেও পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর মধ্যস্থতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরাসরি সংলাপ সম্ভব না হলেও এ ধরনের পরোক্ষ

কূটনৈতিক উদ্যোগ বড় ধরনের প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হতে পারে।

আপাতত বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপের খবর না পাওয়া গেলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য

মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে

আগামী কয়েকদিনের কূটনৈতিক মোড় পরিবর্তনের দিকে, যা নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের

ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos