ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল, নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা

ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল, নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। স্বস্তি-অস্বস্তি নিয়ে ইতোমধ্যে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ঈদের ছুটিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যারা থাকেন, তারা এখন নিজ নিজ জেলায় অর্থাৎ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে। চাঁদ

দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর

উদযাপিত হতে পারে। স্বস্তি-অস্বস্তি নিয়ে ইতোমধ্যে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে শুরু

করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ঈদের ছুটিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যারা থাকেন, তারা

এখন নিজ নিজ জেলায় অর্থাৎ বাড়িতে ফিরছেন। বাস, ট্রেন, লঞ্চ সবক্ষেত্রে যাত্রীদের

উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে গাবতলী, মহাখালী এবং

যাত্রাবাড়ী বাস স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সেই সাথে কমলাপুর রেলওয়ে

স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।

এদিকে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও দক্ষিণাঞ্চলের

জেলাগুলোতে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ভিড় করছেন। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত লঞ্চঘাটে চাপ

বেড়েছে, আশপাশের সড়কগুলোতেও যানজট দেখা দিয়েছে।

ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ধরে আগেই পাঁচ দিনের ছুটির তারিখ নির্ধারণ করে রেখেছিল

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সেই অনুসারে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা

ছিল। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ১৯ ও ২০

মার্চ এবং ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। তবে

পূর্বঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। আর ১৭

মার্চ শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ

নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কে যানবাহনের ব্যাপক চাপ থাকলেও কোথাও কোনো যানজট সৃষ্টি

হয়নি। পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় বড় যানবাহনের জন্য সাতটি ও মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি

আলাদা টোল কাউন্টার চালু থাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে টোল আদায় সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে টোল

প্লাজায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছাড়াই চালকরা সেতু পার হতে পারছেন। কোনো ধরনের

ভোগান্তি ছাড়াই এবারের ঈদযাত্রা সম্পন্ন করতে পেরে সাধারণ যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ

করেন।

যাতায়াতে ভোগান্তি না থাকলেও অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, ঈদের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন

পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। মহাসড়ক যানজটমুক্ত থাকলেও

ভাড়ার ক্ষেত্রে এমন নৈরাজ্য তাদের ঈদ আনন্দ কিছুটা ম্লান করছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মেনহাজুল আলম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেলা পুলিশের প্রায়

৫০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং যাত্রী হয়রানি

রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।

ঈদযাত্রায় কমলাপুরে উপচেপড়া ভিড় : কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ঢল

নেমেছে। গতকাল সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশে যাত্রীরা স্টেশনে

ভিড় করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে চালু হওয়া বিশেষ ট্রেনের পাশাপাশি নিয়মিত

ট্রেনগুলোতেও তীব্র যাত্রীচাপ রয়েছে। নির্ধারিত ট্রেনে উঠতে অনেক যাত্রী আগেভাগেই

স্টেশনে এসে অপেক্ষা করছেন। টিকিটধারীদের পাশাপাশি অনেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়েও

যাত্রা করছেন।

যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রেনের সময়সূচি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে এবং

প্ল্যাটফর্মে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ

জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা

ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সব ধরনের ভোগান্তি সত্ত্বেও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের

আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ ছুটছেন বাড়ির পথে। ফলে কমলাপুর স্টেশনজুড়ে এখন ঘরে ফেরার

উচ্ছ্বাসই চোখে পড়ছে।

সদরঘাটে ফিরছে সেই পুরোনো ব্যস্ততা :

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের জনস্রোত ঈদের আগে আজই ছিল শেষ কর্মদিবস।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে যাত্রীদের চাপ ব্যাপক।

লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীরা বরিশাল,

ভোলা, চাঁদপুর, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য ঘাটে আসছেন।

ঘাটে কুলি-মজুরদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও

পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে। ঈদের আগে ভিড় এড়াতে

অনেকে আগেভাগেই যাত্রা শুরু করছেন। সাধারণ সময়ে বরিশাল রুটে এক বা দুটি লঞ্চ চলাচল

করলেও বর্তমানে যাত্রীর চাহিদা বাড়ায় চারটি লঞ্চ ছাড়ছে।

লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেকের ভাড়া ৩০০

টাকা, সিঙ্গেল কেবিন এক হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া ২ হাজার ৪০০ টাকা।

এছাড়া বিভিন্ন ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঢাকা থেকে

মুলাদি ও ভাসানচর রুটে ডেকের ভাড়া ৪০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া এক হাজার থেকে দুই হাজার

টাকা। অন্যদিকে চাঁদপুর রুটে ডেকের ভাড়া ২০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ৫০০ থেকে দুই

হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে বরিশাল যাচ্ছিলেন সাইফুল হক। বেলা বাড়লে ভিড় বাড়বে বলে

আগেভাগেই তিনি মিরপুর থেকে এসেছেন তারা। তিনি বলেন, ভিড় এড়াতেই আগেভাগে বাড়ির পথে

রওনা হয়েছি। ভাড়াও আগের মতোই রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌকর্তৃপক্ষের পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, এবারে ঈদ

উপলক্ষে আমরা যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবেছি। নতুন ট্রলি সরবরাহ করেছি মালামাল বহনের

জন্য। যাত্রীদের ভিড় অনেকটা বেড়েছে।

বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় : মহাখালী বাস টার্মিনালে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার

যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। এদিকে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে দুপুর পর্যন্ত

যাত্রীদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি। সায়েদাবাদ ও ধোলাইরপাড় বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ

বেশ বেড়েছে। সায়েদাবাদ থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন

গন্তব্যে বাস ছেড়ে যায়।

তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকেলের পর থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে। পরিবহন

সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।

তবে যাত্রীদের জন্য বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রায় ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও যানবাহনের

চাপ ছিল অনেক। এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহনের

সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গণপরিবহন সংকট, যাত্রীদের ভোগান্তি

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও কোনো যানজট নেই। তবে মহাসড়কে গণপরিবহনের সংকট দেখা

দেওয়ায় ঘরমুখো মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মহাসড়কের এলেঙ্গাসহ

গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘরমুখো মানুষের চাপ রয়েছে।

অনেকেই বাস বা গণপরিবহন না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে বাড়ি

যাচ্ছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরেজমিনে মহাসড়কের নগরজালফৈ বাইপাস, রাবনা বাইপাস ও এলেঙ্গা

বাসস্ট্যান্ডে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এসময় দেখা যায়, কেউ কেউ আধা ঘণ্টা

থেকে এক ঘণ্টা যাবত গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। ভ্যাপসা গরম ও ধুলোবালিতে চরম

দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখো মানুষদের।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির চাপ : ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার

১০৪ কিলোমিটার অংশে এখনো পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ)

সকাল ১০টার পর থেকে মহাসড়কে যানজট না থাকলেও পরিবহনের চাপ বেড়েছে। এবারের ঈদ

যাত্রায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন চালক ও যাত্রীরা। তারা বলছেন বিগত সময়ে ব্যস্ততম এই

মহাসড়কে তীব্র যানজটের কবলে পড়ে ঘরমুখো মানুষদের দুর্ভোগে পড়লেও এবার সেই ভোগান্তি

নেই। এদিকে এবারে যানজট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে

পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos