মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত দুইটা। দক্ষিণ থেকে ধেয়ে আসা আকস্মিক ঝড় শুরু হয় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনাঘেঁষা দশটি এলাকার ওপর দিয়ে। এতে ওইসব এলাকার অর্ধশত বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। সেই সাথে অসংখ্য গাছপালাও উপড়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। প্রতিদিনের মত ঢালচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ)
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত দুইটা। দক্ষিণ থেকে ধেয়ে আসা আকস্মিক ঝড় শুরু হয় ভোলার
চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনাঘেঁষা দশটি এলাকার ওপর দিয়ে। এতে ওইসব এলাকার অর্ধশত
বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। সেই সাথে অসংখ্য গাছপালাও উপড়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ
পোহাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
প্রতিদিনের মত ঢালচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়েছেন। সেহেরির সময়ের দুই ঘণ্টা আগেই
দক্ষিণ থেকে ধেঁয়ে আসা তীব্র গতির বাতাসে তার বসতঘরের চালা উড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আজ
থেকে তিন দিন পরেই ঈদ। ঈদের আগেই আমাদের মাথাগোঁজার ঠাই হারিয়ে ফেলেছি। ঝড় আমাদের
ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। শুধু আমি না, আমার মত বহু পরিবার বসত ঘর হারিয়ে পথে বসেছে।’
একই ভাবে ঢালচরের কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হাসান, মো. ইব্রাহিম, মো. জসিম,
আক্তার, মো. রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, মো. আনোয়ার ও মো.গিয়াস উদ্দিনের বাড়িঘর
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত প্রায় ২ টার দিকে হঠাৎ করেই
প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। প্রথমে হালকা বাতাস থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ঘূর্ণিঝড়ে
রূপ নেয়। ঝড়ের সাথে গুড়ি গুড়ি শিলা বৃষ্টিও হয়। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে,
টিনের ছাউনি উড়ে যায় এবং কাঁচা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। অনেক পরিবার
রাতের আঁধারেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করতে থাকে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে ঢালচর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাদের বেশিরভাগই কাঁচা ঘরে বসবাস করায় ঝড়ের আঘাত
সহ্য করতে পারেনি। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর, কুকরি
মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকি, চর মানিকা, নজরুল নগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়
অর্ধশত বাড়িঘর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্চপিয়া গ্রামের
বাসিন্দা সেলিম বলেন, ‘আমি একজন ব্যবসায়ী। বাতাসের প্রবল চাপে চর কচ্চপিয়া বাজারের
ঘরের চালা উড়ে যায়।’
ঢালচর ইউনিয়নে প্রশাসক ও ঢালচর বন কর্মকর্তা মুইনুল মুঠোফোনে জানান, হঠাৎ ঝড়ে প্রায়
ঢালচরে ত্রিশটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়ে উপজেলা
প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম
জানান, চর মানিকা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিশটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন জানান, ক্ষয়ক্ষতির
সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা
দেওয়া হবে।











