স্বর্ণবাজারে টানা পতন, এক সপ্তাহে দাম কমেছে ১.৭ শতাংশ

স্বর্ণবাজারে টানা পতন, এক সপ্তাহে দাম কমেছে ১.৭ শতাংশ

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহেও কমেছে স্বর্ণের দাম। গত এক সপ্তাহে মূল্যবান এ ধাতুর দর প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ নেমে গেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মূলত ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণবাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে

আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহেও কমেছে স্বর্ণের দাম। গত এক সপ্তাহে

মূল্যবান এ ধাতুর দর প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ নেমে গেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মূলত ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মার্কিন

ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণবাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা

দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমাতে

পারে—এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা কমে যাওয়াও বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ কমেছে বলে জানিয়েছে

রয়টার্স।

স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম সামান্য বাড়লেও সাপ্তাহিক হিসাবে পতনই বেশি দেখা

গেছে। দিনের লেনদেনে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৮৭

ডলার ৬১ সেন্টে পৌঁছায়। তবে পুরো সপ্তাহের হিসাবে দরপতন দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৭

শতাংশে। অন্যদিকে এপ্রিল সরবরাহ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে প্রতি

আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯২ ডলার ৬০ সেন্টে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এখন অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিরাজ করছে।

শেয়ারবাজারে দরপতন এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের

লোকসান সামাল দিতে স্বর্ণ বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করছেন।

স্বতন্ত্র বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘শেয়ারবাজারে সূচকের পতন হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা

অন্যান্য খাতে লোকসান করছেন। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দ্রুত নগদ অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম

হিসেবে তারা স্বর্ণ বিক্রি করে দিচ্ছেন। জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার

ছাড়িয়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে পারে বলে বাজার

ধারণা করছে।’

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার প্রভাবও বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছে ইরান। এতে বৈশ্বিক

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক

বিনিয়োগকারী স্বর্ণের বদলে ডলারকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর

ফলে ডলারের বিনিময় হার গত তিন মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। পাশাপাশি

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইল্ডও ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ

অবস্থানে রয়েছে।

সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য বলছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে জ্বালানি তেলের

উচ্চমূল্যের প্রভাব এখনো পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। বাজার সংশ্লিষ্টরা এখন জানুয়ারির

ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় সংক্রান্ত তথ্যের দিকে নজর রাখছেন। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের

তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন যে Fফেডারেল রিজার্ভ আগামী সপ্তাহের বৈঠকে

সুদহার অপরিবর্তিত রাখতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে

রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮২ ডলার ৬৬ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে

প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৮১ ডলার ২৫ সেন্টে নেমেছে। আর

প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬০৫ ডলার ৯০ সেন্টে

পৌঁছেছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos