চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বোদো/গ্লিমটের রূপকথার রাত: ইন্টার মিলানকে বিদায়

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বোদো/গ্লিমটের রূপকথার রাত: ইন্টার মিলানকে বিদায়

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এক অসাধারণ এবং অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে নরওয়ের ছোট ক্লাব বোদো/গ্লিমটের মাধ্যমে। মঙ্গলবার রাতে সান সিরো স্টেডিয়ামে তারা সবকিছুর মানে বদলে দিয়েছে, ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় করে দিয়েছে। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ৩-১ জয় পাওয়ার পর, দুই লেগের মোট স্কোর ছিল ৫-২। এর ফলে তারা প্রথমবারের

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এক অসাধারণ এবং অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে নরওয়ের ছোট ক্লাব বোদো/গ্লিমটের মাধ্যমে। মঙ্গলবার রাতে সান সিরো স্টেডিয়ামে তারা সবকিছুর মানে বদলে দিয়েছে, ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় করে দিয়েছে। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ৩-১ জয় পাওয়ার পর, দুই লেগের মোট স্কোর ছিল ৫-২। এর ফলে তারা প্রথমবারের মতো নরওয়ের কোনও ক্লাব হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক-আউট পর্বে প্রবেশের ইতিহাস গড়ে। এই দলটি এর আগেও ইউরোপের বড় বড় শক্তিশালী দল যেমন, ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে জয় লাভ করেছিল, যা তাদের প্রতিযোগিতায় অপ্রতিরোধ্য শক্তিরপ্রমাণ ছিল।

ম্যাচ শেষে বোদোর কোচ কেতিল নাটসেন এই জয়কে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে আখ্যায়িত করেন। এই তাদের ছোট শহরের দলের ইতিহাসে নতুন এক রূপকথার সূচনা। সান সিরোতে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে জেনস পিটার হগ ও হাকোন এভজেনের গোলে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয় বোদো। ইন্টার মিলানের হয়ে আলেসান্দ্রো বাসতোনি একটি গোল করে ব্যবধান কমিয়েও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিশ্চিত করে। ইন্টার মিলানের মিডফিল্ডার নিকোলো বারেল্লা হতাশ স্বীকার করেছেন, বোদো অনেকটাই ভালো খেলা পরিচালনা করে। এখন এই দলটি পরের পর্বে ম্যানচেস্টার সিটি বা স্পোর্টিং লিসবনের মুখোমুখি হবে, যা একটি চমকপ্রদ পরিস্থিতি।

শীতকালীন বিরতির কারণে বড় কোনও ঘরোয়া প্রতিযোগিতা থেকে বিশ্রামে থাকা বোদো, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের ধারাবাহিক সফলতা বজায় রেখেছে। জানুয়ারি থেকে তারা ম্যানচেস্টার সিটি, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলানকে হারিয়ে টানা চারটি জয় অর্জন করে। এটি ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের বাইরের দল হিসেবে ১৯৭১-৭২ মৌসুমের পর এক নতুন রেকর্ড। পরিসংখ্যান অনুসারে, এক মাস আগে বোদোর শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা ছিল মাত্র ০.৩ শতাংশ, যা অতিক্রম করে তারা ইন্টার মিলানের মতো দলকে হারিয়ে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ইন্টার মিলান আধিপত্য দেখালেও, ৫৮তম মিনিটে মানুয়েল আকাঞ্জির ভুলে বল পেয়ে যায় বোদো। গোলরক্ষক ইয়ান সমার প্রথম শটটি ফিরিয়ে দিলেও, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় হগ গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এটি ছিল এই মৌসুমে তার ষষ্ঠ গোল, যা নরওয়ের কোনও খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ। পরবর্তী সময়ে ৭২তম মিনিটে জেনস এভজেন দলের দ্বিতীয় গোল করে ইন্টারকে বিদায়ের কড়া আঘাত দেয়। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইন্টার ৩০টি শট নিলেও সফলতা পাননি, যেখানে বোদো তাদের সুযোগের পুরোপুরি ব্যবহার করেছে। ইয়ান বিসেক অবদান রাখতে বলে জানিয়েছেন, ভাগ্য তাদের সহায় ছিল না, আর অন্যদিকে বোদো এই অসাধারণ অর্জন দিয়ে ইতিহাস লিখে ফেলেছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos