নেতানিয়াহুর ঘোষণা: মুসলিমদের বিরুদ্ধে নতুন জোট গঠনের পরিকল্পনা

নেতানিয়াহুর ঘোষণা: মুসলিমদের বিরুদ্ধে নতুন জোট গঠনের পরিকল্পনা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সম strengthening করতে এবং মুসলিমবিশ্বের বিরুদ্ধে একটি নতুন শক্তি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে উল্লেখ করেছেন গভীর পরিকল্পনার কথাসূত্র। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ আশেপাশের দেশের কিছু মিত্র দেশকে নিয়ে তৈরি হবে এক নতুন জোট, যার লক্ষ্য হবে উগ্র অক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। ইসরায়েলে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে এই

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সম strengthening করতে এবং মুসলিমবিশ্বের বিরুদ্ধে একটি নতুন শক্তি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে উল্লেখ করেছেন গভীর পরিকল্পনার কথাসূত্র। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ আশেপাশের দেশের কিছু মিত্র দেশকে নিয়ে তৈরি হবে এক নতুন জোট, যার লক্ষ্য হবে উগ্র অক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

ইসরায়েলে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে এই ঘোষণা দেন নেতানিয়াহু। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি বলেন, মোদিকে নিয়ে ভারতের মতো দেশগুলোও যুক্ত হবে এই ব্যাপক জোটের সঙ্গে, যারা ইসরায়েলের সাথে একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।

নেতানিয়াহু আরও উল্লেখ করেন, এই জোটের মধ্যে থাকবে গ্রিস, সাইপ্রাসসহ কয়েকটি আরব, আফ্রিকান, এবং এশীয় দেশের নাম। তবে তিনি সেসব দেশের নাম স্পষ্ট করে বলেননি। তিনি বলছেন, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো একটি ছয় কোণবিশিষ্ট (হেক্সাগন) জোট গড়ে তোলা, যেখানে বিভিন্ন দেশের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও ঐক্য।

তিনি বলেন, এই জোট মূলত গড়া হবে উগ্র শিয়া অক্ষ ও উত্থানশীল উগ্র সুন্নি অক্ষের বিরুদ্ধে, যারা মানে একদিকে মনে করা হয় শিয়া অক্ষ ইতিমধ্যে কঠোর আঘাত হেনেছে, অন্যদিকে সুন্নি সম্প্রদায়ের উগ্রতাকেও কেন্দ্র করে এই গঠন। নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এক্সে এক বার্তায় বলেন, আস্থা, উদ্ভাবন, শান্তি ও অগ্রগতির লক্ষ্যে গড়ে ওঠা এই সম্পর্কগুলোকে ভারত গভীরভাবে মূল্যায়ন করে।

তবে, নেতানিয়াহুর বক্তব্যে দর্শকদের মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, বিশেষ করে ‘উদীয়মান উগ্র সুন্নি অক্ষ’ বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। জানা যায়, এর আগে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডকেও এই অক্ষের মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

এছাড়াও, গাজায় চলমান সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। এর মধ্যে রয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের কঠোর সমালোচনাও। সৌদি আরবও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে।

ইসরায়েল ও সৌদি Araর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে এসেছে, কারণ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের কারণে এই সম্পর্ক আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, ইসরায়েলের পশ্চিম তীর সংযুক্ত করার পরিকল্পনাও কঠোর সমালোচিত হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণভাবে, ২০২০ সাল থেকে মার্কিন সমর্থনে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ নামে এক উদ্যোগের মাধ্যমে ইসরায়েল আরব এবং মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেষ্টা চালাচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শক্তি বৃদ্ধি। এই কাঠামোর আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কোসহ আরও কিছু দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

আন্তঃআঞ্চলিক পরিস্থিতিতে, গাজায় চলমান হিংসাত্মক সংঘর্ষের পর থেকে ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধের অক্ষ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই অক্ষের অংশ হিসেবে লেবাননের হিজবুল্লাহও রয়েছে, যা এই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos