গাজীপুরবাসীর জন্য এই প্রথম মন্ত্রীবিহীন ইতিহাস

গাজীপুরবাসীর জন্য এই প্রথম মন্ত্রীবিহীন ইতিহাস

গাজীপুরের মানুষ আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে পৌঁছেছেন—এখনো পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর ভাগ্য সহ্যে জোটেনি এই গুরুত্বপূর্ণ জেলা থেকে। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সব মন্ত্রিসভায় গাজীপুরের সন্তানরা নানা পদে প্রতিষ্ঠিত হলেও, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো রাজধানীর অদূরে শিল্পবিপ্লবের স্বপ্ন দেখা এ জেলার কোনো প্রতিনিধি এখনো পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। ফলে এখানকার সাধারণ

গাজীপুরের মানুষ আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে পৌঁছেছেন—এখনো পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর ভাগ্য সহ্যে জোটেনি এই গুরুত্বপূর্ণ জেলা থেকে। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সব মন্ত্রিসভায় গাজীপুরের সন্তানরা নানা পদে প্রতিষ্ঠিত হলেও, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো রাজধানীর অদূরে শিল্পবিপ্লবের স্বপ্ন দেখা এ জেলার কোনো প্রতিনিধি এখনো পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। ফলে এখানকার সাধারণ বাসিন্দা, দলীয় নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা হতাশায় ভোগছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

গাজীপুর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতার বিরুদ্ধে গাজীপুর থেকে শুরু হয় প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। এই প্রেক্ষাপটে গাজীপুরের সন্তানরা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম নির্বাচিত ছিলেন গাজীপুরের কাপাসিয়ার দৌহিত্র তাজউদ্দিন আহমদ। এটি সত্যিই দেশের অর্থনীতি, শিল্প, কৃষি ও নগরায়ণের জন্য অপরিহার্যย์ একটি জেলা। তৈরি পোশাক শিল্প, ভারী ও মাঝারি শিল্পকারখানা, কৃষি ও দ্রুত উন্নয়নের জন্য গাজীপুরের গুরুত্ব অপরিসীম।

স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকারের সময়ে গাজীপুর থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন একাধিক ব্যক্তিত্ব: সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী। বেগম খালেদা জিয়ার আমলে স্থান পেয়েছেন আ স ম হান্নান শাহ ও এম এ মান্নান। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বরত ছিলেন, এমনকি এরশাদের সময়েও জেলা থেকে প্রতিনিধি রয়েছেন। সংক্ষেপে, ইতিহাস বলছে, বিভিন্ন সরকারে গাজীপুরের একজন বা একাধিকজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। জয়ীদের মধ্যে গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর ও সিটির অংশ), গাজীপুর-২ (সদর ও টঙ্গী), গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদর), এবং গাজীপুর-৫ (কালিগঞ্জ ও পশ্চিম সদর) নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন।

এখানকার সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীদের মাঝে এখন দুচোখে বিষন্নতা ও ক্ষোভের ঝিলিক ফুটছে, কারণ তাদের আশার আলো ছিল যে, এই জেলার প্রতিনিধিত্ব দেশের মন্ত্রীসভায় একটি সম্মানজনক স্থান লাভ করবে। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি ও শূন্যতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে গাজীপুরের মতো জেলা থেকে প্রগতিশীল নেতৃত্বের প্রত্যাশা এখন গভীর আশায় রূপান্তরিত।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos