বেবিচককে ১৬৫০ কোটি টাকার অর্থপরিশোধের আদেশ

বেবিচককে ১৬৫০ কোটি টাকার অর্থপরিশোধের আদেশ

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক বিরোধের সমাপ্তি ঘটিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ড। এই বোর্ড গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) বিশাল পরিমাণ অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দেন। এটি মূলত নির্মাণ কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ (এডিসি)-এর পাওনা বাবদ প্রায় ১৬৫০

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক বিরোধের সমাপ্তি ঘটিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ড। এই বোর্ড গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) বিশাল পরিমাণ অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দেন। এটি মূলত নির্মাণ কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ (এডিসি)-এর পাওনা বাবদ প্রায় ১৬৫০ কোটি টাকার বেশি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় আইনি জটিলতা ও অর্থের দাবি, যা দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থার সূচনা করেছিল।

রায়ে বলা হয়, এডিসিকে তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের কিছু নির্দিষ্ট কাজের জন্য জাপানি ইয়েন এবং বাংলাদেশের টাকায় যথাক্রমে ৫৮৯ কোটি ৮৬ লাখ ইয়েন ও ২৭২ কোটি ৯ লাখ টাকা দিতে হবে। পাশাপাশি, রিটেনশন মানি হিসেবে আরও দুইটি বড় অঙ্কের অর্থ—প্রায় ৬০২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ও ৪০০ কোটি ৪২ লাখ টাকা—পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত সুদ ও অর্থপ্রদান বাবদ আরও কিছু অর্থ যোগ হয়েছে, যার পরিমাণ অন্তত ২২ কোটি ইয়েন ও প্রায় ২৯ কোটি টাকা। এই বড় অর্থের বোঝা এখন বেবিচকের ওপর এসে পড়েছে, যা প্রকল্পের ব্যয় ও অগ্রগতিতে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সালিশি বোর্ডের বিবেচনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় উঠে এসেছে। তারা উল্লেখ করে, প্রকল্পের কাজের পরিধি বৃদ্ধির বিষয়টি আইনানুগভাবে সম্পূর্ণ বৈধ ছিল না। এছাড়া, ডিফেক্ট নোটিফিকেশন এই মুহুর্তে শেষ হয়নি, তাই পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট প্রদান সম্ভব নয় বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই কারণেই এডিসির পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরত দেওয়ার আবেদনের নাকচ করা হয়েছে। তারা জানিয়ে দিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক এবং দ্রুত কার্যকর করতে হবে, যাতে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা বা আইনি আপিলের প্রয়োজন পড়বে না। শুধু এককভাবে বেবিচকের এখতিয়ার না থাকায়, নির্ধারিত অর্থের পরিশোধের বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে।

মূলত, এই নির্মাণ প্রকল্পে জড়িত রয়েছে জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশন—যারা যৌথভাবে ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ গঠন করে কাজ চালাচ্ছে। বেবিচক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ডের এই রায় তারা পেয়েছে এবং বিষয়টি দেশের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে। সরকারের নির্দেশ অনুসারে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ধাপগুলো গ্রহণ করা হবে। যদিও টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শেষের পথে, এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা ও বিরোধ সমাধান নতুন করে আলোচনায় আসার যথেষ্ট কারণ তৈরি করেছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos