প্রথমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াতের শ্রদ্ধা

প্রথমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াতের শ্রদ্ধা

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট এবারই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। আগামী শনিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে নেতৃবৃন্দ এই ভাষা ও গণতন্ত্রের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনার পূষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জামায়াতের আমির ও জাতীয়

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট এবারই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। আগামী শনিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে নেতৃবৃন্দ এই ভাষা ও গণতন্ত্রের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনার পূষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধান এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন, তাদের সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য সংসদ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। তারা শহীদ বেদিতে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন, কারণ অতীতে এই দলটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এমন আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন দেখা যায়নি। এবার তারা রাষ্ট্রীয় সাজে, বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে এ স্মরণে অংশ নিলেন। এ সময় ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত আল্লাহ, এটিএম আজহারুল ইসলামসহ অন্য নেতৃবৃন্দ। এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও নতুন নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, পরে তিন বাহিনীর প্রধানগণ—সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানগণও পুষ্পস্তবক নিবেদন করেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ বেদিতে কিছুক্ষণ স্থির থেকে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত চালিয়ে যান। দিবসটি উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে সুরক্ষার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে এসে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের ফলশ্রুতিতে এবারের একুশে উদযাপন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভাষা আন্দোলনের চেতনায় জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাকে মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দল ও জামায়াতের এই শ্রদ্ধা নিবেদন দেশের রাজনীতিতে নতুন দিক নির্দেশ করে। অমর একুশে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে, যা এই দিনকে করে তোলে ইতিহাসের এক স্মরণীয় অধ্যায়।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos