সংযোগ সড়কের অভাবে ৩ বছরেও সরকারি সেতু এখনো অপ্রযুক্তে, লাখো মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত

সংযোগ সড়কের অভাবে ৩ বছরেও সরকারি সেতু এখনো অপ্রযুক্তে, লাখো মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজটি তিন বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও, এখনও সংযোগ সড়ক নির্মাণের অভাবে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা ভোগান্তির পর আশার আলো হিসেবে এটি নির্মিত হয়, কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় ভোগান্তি কমেনি। বিশেষ করে দৌলতপুর ও গাংনী

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজটি তিন বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও, এখনও সংযোগ সড়ক নির্মাণের অভাবে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা ভোগান্তির পর আশার আলো হিসেবে এটি নির্মিত হয়, কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় ভোগান্তি কমেনি। বিশেষ করে দৌলতপুর ও গাংনী উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এই পরিস্থিতি। তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস পাদানের জন্য প্রায় ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ হাঁটতে কিংবা ঘুরে যেতে হয়। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, ব্রিজটি সফলভাবে নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় মানুষের হয়রানি কমে না। তারা অভিযোগ করেছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এই সমস্যা লেগে আছে। এলজিইডি বলছে, জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণেই এই কাজ অগ্রসর হচ্ছে না। গাংনী উপজেলার এলজিইডির সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে এই ব্রিজটির নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়, এবং ২০২২ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়, যার ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকার মতো। তবে নির্মাণের পর থেকে ওই ব্রিজটি পড়ে রয়েছে, আর এর সঙ্গে কোনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ হইনি বলে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন। দৌলতপুর অংশে যা কিছু দায়সারা সংযোগ সড়ক ছিল সেটিও বেশ ভেঙে গেছে, ফলে সেতুটির ব্যবহার করছে না এলাকার মানুষ। তারা পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতে ব্যাপক ঝামেলায় পড়েছেন। এলজিইডি জানাচ্ছছেন, আগে স্থানীয় দুই মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ও আমিরুল ইসলাম স্বেচ্ছায় তাদের জমি দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু পরে নির্মাণ চলাকালে কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও অর্থনৈতিক দাবির কারণে সে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। জমির বর্তমান বাজারমূল্য বেশি দাবি করার ঘটনাও ঘটেছে, তাই কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণের এই জটিলতাটি এখনো সমাধান হয়নি, এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলমান। এলাকার জমির মালিকেরা বলছেন, তারা নিজস্ব জমির উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ায় জমি দিতে চাননি। আবার সরকারের পক্ষ থেকে তেমন উদ্যোগও দেখা যায়নি। দৌলতপুরের বাসিন্দা রনি আহমেদ বলেন, মাথাভাঙা নদীর নদীর সেতু থেকে নেমে যাওয়ার জন্য কোনো সরাসরি সড়ক নেই। তবে একটা সংযোগ সড়ক ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, গাংনী উপজেলার মানুষজন সেতুর উপর দিয়ে যাওয়ার জন্য রীতিমতো বিপদে পড়ছেন, কারণ অনেক স্থানে বাঁশের সাঁকো বা নৌকায় চলাচল করতে হয়। কিছু এলাকায় এখনো সংযোগ সড়ক সম্পূর্ণ নির্মাণ হয় নি। একারণে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে হয়, যেখানে সময় কাটা পড়ছে অনেক বেশি। কাজিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলম হুসাইন বলেন, এই সেতুটি দুই জেলার মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করে দিয়েছে। এক সময় তারা নৌকা বা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতেন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষ হওয়ার পর এই সেতুটি তৈরি হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় তার সুবিধা পুরোপুরি মিলছে না। বর্তমানে অবস্থা এতটাই খারাপ যে চলাচল খুবই অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন। গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী রোকুনজ্জামান জানিয়েছেন, জমির জটিলতার কারণে নির্মাণ কাজ ঠিকমত চালানো সম্ভব হয়নি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই বিষয়টি সমাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ে নানা চেষ্টা চলছে যাতে দ্রুতই এই সমস্যা কাটানো যায় এবং সাধারণ মানুষ অব্যাহত ভোগান্তি থেকে মুক্তি পায়।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos