কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে গত দশ বছরে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সংযুক্ত অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে কৃষকের প্রণোদনার টাকা আত্মসাৎ এবং ভুয়া বিল-ভাউচার সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুসারে, আবুল হাসেম বিভিন্ন সময় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চরতালজাঙ্গা ও বগাদিয়া এলাকায় বহু
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে গত দশ বছরে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সংযুক্ত অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে কৃষকের প্রণোদনার টাকা আত্মসাৎ এবং ভুয়া বিল-ভাউচার সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রায় এক কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুসারে, আবুল হাসেম বিভিন্ন সময় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চরতালজাঙ্গা ও বগাদিয়া এলাকায় বহু জমি কিনেছেন, যার প্রকৃত ক্রয়মূল্যের তুলনায় দলিলে অনেক কম দামে দেখানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর চরতালজাঙ্গায় এক দাগে ২০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তিনি, যেখানে স্থানীয় এক বাসিন্দার কাছ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় জোড়া গেছে। কিন্তু দলিলে দেখানো হয় মাত্র ৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এর আগে, ২০২৪ সালে একই এলাকার একাধিক জমি কিনেছিলেন, কিন্তু দলিলে সেগুলোর মূল্য কম দেখানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আবুল হাসেম বিভিন্ন জমি কিনেছেন, যার মোট দলিলমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকার মতো। তবে স্থানীয় সূত্র ও বাজার মূল্য বিশ্লেষণে তার প্রকৃত সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৯৫ লাখ টাকার বেশি। তিনি বিভিন্ন সময় অন্যান্য জেলা ও উপজেলার জমিও কিনেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মাছুম আকন্দ, রাদিফা আক্তার, খন্দকার তাহমিনা ইজদানীসহ কয়েকজনের কাছ থেকে অর্জিত জমি। এসব জমির দলিল সম্পন্ন না হলেও তার বিশাল সম্পত্তির হিসাব সামনে এসেছে।
অবশ্য, আবুল হাসেম নিজেকে সাধারণ এক সরকারি কর্মচারি হিসেবে দাবি করেন, তিনি তার কৃষি জমি চাষাবাদ করে অর্থ উপার্জন করে সম্পদ তৈরি করেছেন। তবে স্থানীয় বহু প্রতিবেশী ও সূত্র তাকে জমি চাষাবাদ করেননি বলছেন এবং তার বাড়ি-ঘরেও সাধারণভাবে তেমন যাতায়াত দেখা যায় না।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে তার স্ত্রীর বড় বোনের কাছ থেকে একটি জমি ক্রয় করেন, যেখানে তৃতীয় পক্ষের জটিলতায় এখনো রেজিস্ট্রি হয়নি। এরই মধ্যে, তিনি নানা মাধ্যমে ও খরচের মাধ্যমে অনেক সম্পদ জড়ো করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তের মোট বেতন ও ভাতা বাবদ দাখিলকৃত হিসাব অনুযায়ী, গত দশ বছরে তিনি মোট পেয়েছেন প্রায় ৪১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, বাসভাড়া বাবদ ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং চিকিৎসা ভাতা পেয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
আবুল হাসেম ২০০৪ সালে নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলায় চাকরি শুরু করেন, পরে তাড়াইল ও বাজিতপুরে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় বদলি হন। স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন সূত্রের দাবি, কিশোরগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
তার বিরুদ্ধে তাঁর নিজ জেলায় নানা অভিযোগ উঠলেও তিনি এসব অস্বীকার করে বলেন, তিনি কৃষি জমি চাষাবাদ করে লাভবান হয়েছেন। তবে স্থানীয়রা এ ব্যাপারে কোন প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেনি।
অ্যাটর্নি অফিস ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উঠলেও তিনি এখনও চাকরির অবসান হয়নি। বিভিন্ন অনিয়মের মধ্যে রয়েছে, তিনি অফিসে উচ্চ মান সহকারী থাকা সত্ত্বেও বেশির ভাগ আর্থিক ফাইল নিজে করেন এবং চাকরিতে দীর্ঘ সময় ধরে বহাল রয়েছেন।
কৃষি অফিসের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়নুল আলম তালুকদার বলেন, তাকে এখনো কোনও লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ পেননি। তবে ভবিষ্যতে এসব অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











