জহির উদ্দিন স্বপনের রাজনৈতিক জীবন শুরু ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, যখন তিনি প্রথমবারের মতো এক তরুণ ছাত্রনেতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। এরপর ধাপে ধাপে তিনি দেশের রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এক সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, দলের মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন তিনি, যা তাঁর রাজনৈতিক
জহির উদ্দিন স্বপনের রাজনৈতিক জীবন শুরু ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, যখন তিনি প্রথমবারের মতো এক তরুণ ছাত্রনেতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। এরপর ধাপে ধাপে তিনি দেশের রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এক সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, দলের মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন তিনি, যা তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর ধারাবাহিক সফলতার ফলেই পরে বিএনপির অন্যতম মুখ হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায়, সম্প্রতি মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, তিনি নতুন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে শপথ নেন।
এর আগে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন স্বপন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫২ ভোট, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট। ফলে, প্রায় ৫৪ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে তিনি জয়ী হন। এই বিজয় দিয়ে দুই দশকের বেশি সময়ের অপেক্ষার পর তার আসনটি পুনরুদ্ধর হয়, যা দৃঢ় প্রমাণ করে তাঁর অফুরন্ত পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস।
এছাড়া, নির্বাচনী এলাকা ও দলের কর্মীরা মহান আনন্দে মজে যান, সন্ধ্যায় মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলের মাধ্যমে এই খুশি প্রকাশ করা হয়। নেতা-কর্মীরা ‘স্বপন ভাই, স্বপন ভাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন, যা পুরো এলাকায় উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। খবরটি জানাজানি হওয়ার পর, তিনি আবারো প্রমাণ করেন যে, পাঁচবারের সংসদ সদস্য হয়ে তিনি দলে ও সমাজে গৌরবের ছায়া ছড়িয়ে আছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০০১ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও একই আসনে জয়লাভ করেন। এভাবে, তিনবারের নির্বাচনী ইতিহাসের অংশ হিসেবে তিনি সংসদে যাচ্ছেন।
জহির উদ্দিন স্বপনের সংসদীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ন বিভিন্ন স্থায়ী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিগুলোর সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে সরকারি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর অংশগ্রহণ notable, যেখানে তিনি দুবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। মানবাধিকার, আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানব নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করা ‘পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশন (পিজিএ)’ নামে বিশ্বব্যাপী আইনী সংস্থার এশিয়া অঞ্চলের সহসভাপতিও ছিলেন তিনি। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক যুব ও ছাত্র সংগঠনের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন।
স্বপনের শিক্ষাগত পটভূমি শক্তিশালী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তাঁর মূল দক্ষতাগুলোর মধ্যে স্থান পাইছে রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়ন, নীতি বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।
নতুন মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর, জহির উদ্দিন স্বপন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তাদের বিশ্বাসের মূল্য দিতে চাই এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’ এই বক্তৃতা কেবল ব্যক্তির নৈতিক শক্তি না, বরং তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞান ও দায়িত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে।











