নেপালের ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান

নেপালের ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান

নেপাল ক্রিকেট ইতিহাসে এক স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হল গতকাল মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। দীর্ঘ ১২ বছর পর তারা বিশ্বমঞ্চে একটি উল্লেখযোগ্য জয়ের স্বাদ গ্রহণ করল, যা তাদের মনোবলকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। পূর্বের আসরগুলিতে বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খুব কাছাকাছি গিয়ে হারের ক্ষত তারা পেত হলেও, এবার তারা সেই দুঃখ

নেপাল ক্রিকেট ইতিহাসে এক স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হল গতকাল মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। দীর্ঘ ১২ বছর পর তারা বিশ্বমঞ্চে একটি উল্লেখযোগ্য জয়ের স্বাদ গ্রহণ করল, যা তাদের মনোবলকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। পূর্বের আসরগুলিতে বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খুব কাছাকাছি গিয়ে হারের ক্ষত তারা পেত হলেও, এবার তারা সেই দুঃখ ঘুচিয়ে দিয়েছে। এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, এটি ছিল পুরো দলের জন্য এক নতুন স্বপ্নের সূচনা। যদিও এই ম্যাচের ফলাফল নিশ্চিত করেছিল যে নেপালের এবারের বিশ্বকাপের যাত্রা শেষ, তবে এই জয়টি তাদের জন্য একটি মানসিক প্রশান্তি এবং বড় এক সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হবে।

ম্যাচের শুরুতেই টস জিতে ব্যাটিং করতে নামেন স্কটল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। তাদের উদ্বোধনী জুটিতে জর্জ মানসির সঙ্গে ৮০ রান যোগ করেন মাইকেল জোন্স, যার মাধ্যমে তারা শক্তিশালী স্কোরের দিকে এগিয়ে যায়। জোন্স ৪৫ বলে ৭১ রান করে অপরাজিত থাকেন, যা দলের জন্য এক বিশাল আক্রমণাত্মক ইনিংস। ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেনের সঙ্গে তিনি আরও ৫২ রান যোগ করেন। অন্যদিকে, নেপালি বোলাররা শুরুতেই চাপ তৈরি করেন। অভিজ্ঞ পেসার সোমপাল কামি ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন, যার ফলে স্কটল্যান্ডের ইনিংস ১৭০ রানে থেমে যায়।

ত্রিশ পেরিয়ে যাওয়ার পর নেপালের লক্ষ্য ছিল কঠিন, তবে তারা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলেন। উদ্বোধনী জুটিতে কুশল ভুর্টেল ও আসিফ শেখ প্রথম পাওয়ার প্লে-তেই ৫৬ রান যোগ করেন, যেখানে কোনো উইকেট পড়েনি। তবে পরবর্তী সময়ে কিছুটা চাপ আসে যখন প্রথম উইকেট হারায়। কুশল ৪৩ এবং আসিফ ৩৩ রান করে ফিরে যান, এবং অধিনায়ক রোহিত পাউডেলও বেশি কিছু করতে পারেননি। তবে তখন মাঠে নামেন দলের বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা তারকা দীপেন্দ্র সিং আইরি।

প্রথমে বেশ কিছুক্ষণ স্কোর সমান হতেই থাকলেও ম্যাচের শেষ ৩৬ বলে আইরি রূপ ধারণ করে। মাত্র ২৩ বলে চারটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৫০ রান করেন তিনি। এর পাশাপাশি তরুণ গুলশান ঝা ১৭ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই চতুর্থ উইকেট জুটির ওপর ভর করে, মাত্র ৩ বল হাতে রেখেই নেপাল বিজয়ে পৌঁছে যায়। ম্যাচসেরার পুরস্কার পান আইরি, যিনি দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দলের জেতার মূল কারিগর।

এই জয়ের মাধ্যমে নেপাল কেবল তাদের দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার শেষ ঘটানই নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের মুখোমুখি নিজেদের সক্ষমতার এক দৃঢ় বার্তা দেন। এই শক্তিশালী পারফরম্যান্স তাদের ভবিষ্যতের ক্রিকেট যাত্রাকে আরও উচ্চতর করে তুলবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos