উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম লেগের প্লে-অফ পর্বে বেনফিকাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এই ম্যাচের মূল আলোচনায় রয়েছে ফুটবল মাঠের মধ্যে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়, যা পুরো খেলাধুলার মানসম্মানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। লিসবনের এস্তাদিও দা লুজে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক ম্যাচের ফলাফলকে overshadow করে দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়ুসের বিরুদ্ধে চলা এক বর্ণবাদী ঘটনায়। প্রতিপক্ষের একজন
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম লেগের প্লে-অফ পর্বে বেনফিকাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এই ম্যাচের মূল আলোচনায় রয়েছে ফুটবল মাঠের মধ্যে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়, যা পুরো খেলাধুলার মানসম্মানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। লিসবনের এস্তাদিও দা লুজে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক ম্যাচের ফলাফলকে overshadow করে দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়ুসের বিরুদ্ধে চলা এক বর্ণবাদী ঘটনায়। প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে ভিনিসিয়ুস মাঠ ত্যাগ করলে ম্যাচের কিছু সময় জন্য বন্ধ হয়ে যায়। রেফারিকে খুবই কষ্টে পরিস্থিতি সামলাতে হয়, এবং এই অস্থিরতা ম্যাচশেষেও গ্যালারিতে অব্যাহত থাকে।
প্রথমার্ধের খেলা ছিল মূলত গোলরক্ষকদের দারুণ দক্ষতার লড়াই। তিন সপ্তাহ আগে লিগে রিয়ালকে রুখে দেওয়া বেনফিকার গোলরক্ষক আন্তোলি ত্রুবিন প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি দারুণ সেভ করে প্রতিপক্ষের গোলের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। অন্যদিকে, দ্বিতীয়ার্ধে নিজের পারফরম্যান্স বদলে দেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়ুস। মাঝমাঠ থেকে বল উঠিয়ে নিজের শক্তিতে ডি-বক্সের দিকে এককভাবে এগিয়ে যান তিনি। দূরপাল্লার শটটি ছিল দারুণ দৃষ্টিনন্দন, যা গর্জে ওঠা গোলপোস্টের উপরের কোণে পৌঁছে যায়। এই গোলের পরে মাঠে স্বাগতিক দর্শকদের তরফ থেকে তাকে উদযাপন করতে দেখে রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেন।
তবে খেলার মূল নাটক এতটাই উত্তাপ ছড়িয়েছে যে, এর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় বিতর্ক ও উত্তেজনা। প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড় ভিনিসিয়ুসের উদ্দেশ্যে কিছু বর্ণবাদী মন্তব্য করেন, যা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি রেফারিকে বিষয়টি জানান এবং মাইল বন্ধ করে মাঠ ত্যাগ করেন। এ সময়ে দেখা যায়, রিয়ালের অন্য খেলোয়াড়রা তাদের ডাগআউটে ফিরে গেছেন। খেলার এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই রেফারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হন। এই ১০ মিনিটের অচলাবস্থার জন্য এক কোচকে বহিষ্কার করতে হয়, এছাড়া বেনফিকার কোচ হোসে মরিনহোআর দণ্ডপ্রাপ্ত হন লাল কার্ডে। এ সময়, কিলিয়ান এমবাপ্পেও বেশ উদ্বিগ্ন ও বিরক্ত দেখানো হয়।
বিরতির পর যখন খেলা পুনরায় শুরু হয়, তখনও খেলোয়াড়রা পুরোপুরি স্বাভাবিক মনোভাব ফিরে পাননি। ভিনিসিয়ুসের প্রতি গালাগালি ধ্বনি আর স্টেডিয়ামের দিক থেকে অশোভন আচরণ চলতে থাকে। বিশেষ করে ম্যাচ শেষের সময় বেনফিকার সমর্থকদের প্রতিবাদ আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। তারা রিয়ালের খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে পানির বোতল, বিভিন্ন বস্তু হাতে নিয়ে ছুড়তে থাকেন, যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটায়। সবকিছুর মধ্যেও, রিয়াল মাদ্রিদ এই ১-০ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। পরবর্তী ম্যাচটি হবে গতির মাঠে, অর্থাৎ আগামী বুধবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর মাঠে। তবে এই জয়ের পাশাপাশি, ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন কলঙ্কজনক অধ্যায় যুক্ত হয়েছে, যেখানে বর্ণবাদী উসকানি আর অস্থিরতার জন্য আলোচিত হচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের এক উজ্জ্বল প্রতীকলগ্ন। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় কঠোশাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।











