পুঁজিবাজারে বড় ধরনের উত্থান, নির্বাচনের আগে সূচক ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি

পুঁজিবাজারে বড় ধরনের উত্থান, নির্বাচনের আগে সূচক ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি

নির্বাচনের আগে শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেশ কিছুটা স্বস্তির আবহ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারে নির্বাচনের আগে সূচক দ্রুত উর্ধ্বমুখী হয়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিগত সপ্তাহের তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স উল্লেখযোগ্যভাবে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫,০০০ এর কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বোঝা যায়

নির্বাচনের আগে শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেশ কিছুটা স্বস্তির আবহ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারে নির্বাচনের আগে সূচক দ্রুত উর্ধ্বমুখী হয়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিগত সপ্তাহের তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স উল্লেখযোগ্যভাবে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫,০০০ এর কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বোঝা যায় যে, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক পূর্ববর্তী সপ্তাহের তুলনায় ১৬৫.৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫২০৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এর আগে সপ্তাহ শেষে এই সূচক ছিল ৫২৪৩ পয়েন্ট। একই সঙ্গে ডিএস-৩০ সূচক, যা নির্বাচিত শেয়ারের ওপর ভিত্তি করে, ৫৭ দশমিক ১০ পয়েন্ট বা প্রায় ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,৫৯০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগে ছিল ২,২য়৭০ পয়েন্ট। এর পাশাপাশি ডিএসই শরিয়াহ সূচক, ডিএসইএস, গত সপ্তাহে ২৪.৮৪ পয়েন্ট বা ২.৩ শতাংশ বেড়ে ১,০৯৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যেখানে আগের সপ্তাহের শেষে এই সূচক ছিল ১,০৭২ পয়েন্ট।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোট ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫৩ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৯টির এবং আটটির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়াও ২৩টির কোনো লেনদেন হয়নি। এই ইতিবাচক অবস্থানে সব থেকে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও রেনাটা পিএলসির শেয়ার। যদিও সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে গড় দৈনিক লেনদেন ছিল ৬৩৮ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাংক খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি এবং এটি মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ১৬ শতাংশ দখল করে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বস্ত্রখাত, যেখানে ১৫ দশমিক ০৯ শতাংশ লেনদেন হয়। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ার, যা ১৫ শতাংশের খানিক বেশি। প্রকৌশল খাত ৭.৯৯ শতাংশ লেনদেন দিয়ে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে এবং সাধারণ বীমা খাত ৭ শতাংশের কিছু বেশি। সবখাতের শেয়ারে মোটিবাচক রিটার্ন ধরা পড়েছে—বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের প্রায় ৬.২৩ শতাংশ, যেখানে বস্ত্রখাত ৫.৪১ শতাংশ, ভ্রমণ ও অবকাশ খাত ৩.৫৯ শতাংশ এবং ব্যাংক খাত ৩.৫৪ শতাংশের উন্নতি হয়েছে।

অন্য পুঁজিবাজার, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এর সার্বিক সূচক গত সপ্তাহে ২.০৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ হাজার ৩৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে, আগের সপ্তাহে ছিল ১৪ হাজার ৭৩১ পয়েন্ট। পাশাপাশি, সিএসসিএক্স সূচকও ১.৬৫ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ২৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এই সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কম। সিএসইয়ে মোট ২৬৭টি প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২০১টির দর বেড়েছে, ৫২টির দর কমেছে এবং ১৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এই সব অর্জন ও লেনদেনের ধারায় বোঝা যায় যে, বর্তমান বাজারে সচেতনতা এবং বিনিয়োগে আগ্রহ আবার বাড়ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos