অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর অবশেষে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি আবারও তাঁর আগের পেশায় ফিরে যাবেন। আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, দেশযুদ্ধের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর অবশেষে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি আবারও তাঁর আগের পেশায় ফিরে যাবেন। আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, দেশযুদ্ধের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর, ড. ইউনূস তার শিক্ষা, গবেষণা ও সামাজিক ব্যবসা সংক্রান্ত পূর্বের কাজে মনোযোগী হয়ে উঠতে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আলী রীয়াজ বিশদভাবে আলোচনা করেন, শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, আমজনতার গণভোটের ঐতিহাসিক রায় স্পষ্ট করেছে যে, জনগণ আর কোনোভাবেই পুরোনো শাসনব্যবস্থা বা রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দিকে ফিরে যেতে চায় না। নির্বাচনের চেয়ে গণভোটে ভোটার অংশগ্রহণের হার বেশি হওয়াকে তিনি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন, যা দেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই স্পষ্ট গণভোটের রায়কে মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দলগুলো এগিয়ে যাবে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো অঙ্গীকার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে বলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্বাস করে। বিশেষ করে, বিএনপির প্রশংসা করে তিনি বলেন, দলের ইতিহাসে দেশের বিভিন্ন সংকট ও অসুবিধার সময় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবদান রেখেছে। তিনি আরো বলেন, যদিও এই পথ কঠিন, তবুও সকল দল যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। সবাইকে জনগণের রায়কে সম্মান করার আহ্বান জানান তিনি।
অতিরিক্তভাবে, আলী রীয়াজ সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে কথা বলতে গিয়ে ঘোষণা করেন, দেশের শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও অংশগ্রহণমূলক করতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা এবং উচ্চ সংসদীয় কক্ষের প্রবর্তন জরুরি। এ কাজের জন্য তিনি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি বলেন, এই সব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ, শক্তিশালী এবং সুন্দর গণতান্ত্রিক কাঠামো নির্মাণ। আন্তঃবর্তি সরকার তাদের শেষ মুহূর্তের কাজগুলো সম্পন্ন করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দিকে কাজ করছে।
প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন।











