বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতি ও তেলের মজুত: শীর্ষ চার দেশের একক আধিপত্য

বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতি ও তেলের মজুত: শীর্ষ চার দেশের একক আধিপত্য

বর্তমান বিশ্বের স্বীকৃত তেলের মজুত ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অর্ধেকেরও বেশি এখন মাত্র চারটি শক্তিধর দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৪ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেলের মজুতধারী রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছে। ওপেকের তথ্যমতে, দেশটির মাটির নিচে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যা একক দেশ হিসেবে

বর্তমান বিশ্বের স্বীকৃত তেলের মজুত ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অর্ধেকেরও বেশি এখন

মাত্র চারটি শক্তিধর দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৪ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান

অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেলের মজুতধারী

রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছে। ওপেকের তথ্যমতে, দেশটির মাটির নিচে

প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যা একক দেশ হিসেবে বিশ্বে

সর্বোচ্চ। তবে বিপুল এই প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী

নিষেধাজ্ঞার গ্যাঁড়াকলে পড়ে ভেনেজুয়েলা তাদের তেল রফতানি এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক

সুবিধা অর্জনে প্রতিনিয়ত নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভেনেজুয়েলার ঠিক

পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব, যাদের মোট মজুতকৃত তেলের পরিমাণ ২৬৭ বিলিয়ন

ব্যারেল। এছাড়া ২০৯ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে ইরান তালিকায় তৃতীয় এবং ১৬৩ বিলিয়ন

ব্যারেল মজুত নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে কানাডা। মূলত এই চারটি দেশই

সম্মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি ও সরবরাহের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ

করছে। বৈশ্বিক জ্বালানি তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইরাক (১৪৫ বিলিয়ন

ব্যারেল), সংযুক্ত আরব আমিরাত (১০৭ বিলিয়ন ব্যারেল) এবং কুয়েত (১০২ বিলিয়ন

ব্যারেল)।

তালিকায় ৮০ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত নিয়ে রাশিয়া অষ্টম স্থানে এবং ৪৮ বিলিয়ন

ব্যারেল নিয়ে লিবিয়া নবম স্থানে অবস্থান করছে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়া

সত্ত্বেও ৪৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে তালিকার দশম

স্থানে। এর বাইরে নাইজেরিয়ায় ৩৭ বিলিয়ন ও কাজাখস্তানে ৩০ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত

সংরক্ষিত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রমাণিত তেলের এই বিশাল মজুত কোনো দেশের ভবিষ্যৎ

জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার মানদণ্ড নির্ধারণে অত্যন্ত

গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বড় মজুতধারী দেশগুলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে

নিজেদের কৌশলগত প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়, যা সরাসরি বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণকে

প্রভাবিত করে থাকে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ ও আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্য নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য

করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে,

“ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির

দুর্বল হয়ে পড়া তেল শিল্প পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণও

জানানো হয়েছে।” ট্রাম্পের এই অবস্থান বিশ্ব তেল বাণিজ্যে নতুন এক উত্তেজনা ও

ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে, যা আগামী দিনে জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাকে

প্রভাবিত করতে পারে। মূলত মজুত ও নিয়ন্ত্রণের এই অসম বণ্টনই বর্তমান বিশ্বের

জ্বালানি রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos