দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রভাবশালী রাষ্ট্র ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে এক নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশ দুটির মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা কেবল দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ নয়, বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রভাবশালী রাষ্ট্র ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে
দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে এক নতুন
কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত
করার ক্ষেত্রে দেশ দুটির মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা কেবল দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ নয়,
বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ তারিখে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত দুই দেশের শীর্ষ
নেতাদের বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই ভবিষ্যৎ রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক
বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, জ্বালানি এবং
কৃষিখাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে উভয় দেশ একমত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের শীর্ষ
নেতারা তাদের বিদ্যমান ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ আরও বিস্তৃত করার
বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। দুই দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয়
দিনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে
যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। এছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও দুই নেতা বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সহজতর করার লক্ষ্যে সেমিকন্ডাক্টর ও শিল্প সহযোগিতার
সম্ভাবনা সম্প্রসারণে ভারত ও মালয়েশিয়া ঐকমত্য পোষণ করেছে। মালয়েশিয়া–ইন্ডিয়া
কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং আসিয়ান–ইন্ডিয়া ট্রেড ইন গুডস
অ্যাগ্রিমেন্টের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে উভয় দেশের শিল্প খাতকে স্থানীয় মুদ্রায়
বাণিজ্যের হিসাব ও নিষ্পত্তি বাড়ানোর জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া খাদ্য
নিরাপত্তা ও পুষ্টি ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীর করার পাশাপাশি টেকসই পাম তেলের
নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন মালয়েশিয়ার
প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত
করেন এবং সন্ত্রাসবাদের সব রূপ ও প্রকাশকে তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়ে একটি সমন্বিত
আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালে দুই
দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৮.৫৯ বিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ায়
বসবাসরত প্রায় ২৭.৫ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ দুই দেশের সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন
হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।











