ইউক্রেনকে নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনকে নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দু’জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মার্কিন প্রতিনিধিদলে ছিলেন।

ইউক্রেনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দু’জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক

প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সরকারি

প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রেসিডেন্ট

ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মার্কিন

প্রতিনিধিদলে ছিলেন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবুধাবির সেই

বৈঠকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট

নির্বাচন নিয়েও কথা হয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ইউক্রেনকে দ্রুত

নির্বাচনের ব্যাপারে তাগাদা দিয়েছেন।

রয়টার্সকে ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের

বলেছি যে আমরা দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চাই। আমাদের হাতে বেশি সময় নেই।’

এ ব্যাপারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির দপ্তরের মুখপাত্রদের সঙ্গে

যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, তবে কোনো মুখপাত্র মন্তব্য করতে চাননি

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের মে মাসের নির্বাচনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত

হয়েছিলেন জেলেনস্কি। তার সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৪ সালের মে মাসে।

তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও একের পর এক ডিক্রি জারি করে সামরিক শাসনের মেয়াদ বাড়িয়ে

এখনও ক্ষমতায় আছেন তিনি।

৩১৪ বন্দি বিনিময় করল রাশিয়া- ইউক্রেন

তিন মাসেরও বেশি সময় পর আবারও বন্দি বিনিময় করেছে ইউক্রেন ও রাশিয়া। বৃহস্পতিবার

উভয় দেশই ১৫৭ জন করে মোট ৩১৪ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। তাদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর

সদস্য ছাড়াও সাধারণ নাগরিকরাও রয়েছেন। খবর বিবিসির।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে মস্কো ও কিয়েভের

প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান আলোচনার দ্বিতীয় দিনে বন্দি বিনিময়ের এই ঘটনা ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন,

শান্তি আলোচনার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এখনও গুরুত্বপূর্ণ

কাজ বাকি আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরইমধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করেছে এবং দুই

পক্ষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়ক্ষতির যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের

প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ বলেছেন, ইউক্রেনের ভেতরে ড্রোন হামলার জন্য

রাশিয়া যে স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহার করছিল, সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে।

একই দিনে রাশিয়ার সঙ্গে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের নিহত সেনার সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়ে

গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এছাড়াও বিপুলসংখ্যক

মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে ধরা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স-২ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি

এই পরিসংখ্যানের কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এর আগে, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে

ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। তখন তিনি নিহতের সংখ্যা ৪৩ হাজার

বলে জানিয়েছিলেন।

ফরাসি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনে আনুষ্ঠানিকভাবে

যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের সংখ্যা, পেশাদার কিংবা বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তসহ

৫৫ হাজার।

’শুধু ট্রাম্পই যুদ্ধ থামাতে পারেন’

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার নেতাদের

মুখোমুখি বৈঠকে বসতে হবে, যাতে শান্তি আলোচনায় বাকি থাকা সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলোর

সমাধান করা যায়। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র

ব্যক্তি যিনি এই যুদ্ধে অবসান ঘটাতে পারেন।

সিবিহা বলেন, ইউক্রেন চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসান দ্রুত ঘটাতে চায় এবং

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার গতি কাজে লাগাতে চায়। কারণ, নভেম্বরের

মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় সামনে এলে আলোচনায়

প্রভাব পড়তে পারে। সিবিহা বলেন, শুধু ট্রাম্পই যুদ্ধ থামাতে পারেন।

তিনি জানান, শান্তির জন্য তৈরি ২০ দফা পরিকল্পনার মধ্যে এখন মাত্র কয়েকটি বিষয়

অমীমাংসিত রয়েছে। তবে সেগুলোই সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং কঠিন, যা কেবল শীর্ষ নেতৃত্বের

পর্যায়ে আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব।

ভূখণ্ড ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। রাশিয়া দাবি করছে, ইউক্রেনের

পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাকি ২০ শতাংশ এলাকা ইউক্রেনকে ছেড়ে দিতে হবে, যা

কিয়েভ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। অন্যদিকে ইউক্রেন চায় ইউরোপের সবচেয়ে বড়

জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ, যা বর্তমানে রাশিয়ার দখলে

রয়েছে।

এই সপ্তাহে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফায় বড় কোনো অগ্রগতি না

হলেও, বৃহস্পতিবার ৩১৪ জন যুদ্ধবন্দির বিনিময় হয়েছে—গত অক্টোবরের পর এটি প্রথম

বন্দিবিনিময়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে

মায়ামিতে নতুন দফা আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে এবং ইউক্রেন এতে সম্মত হয়েছে।

সিবিহা বলেন, আমাদের কাছে গতি আছে, এটা সত্য। এখন শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও সুসংহত ও

জোরদার করতে হবে, এবং আমরা দ্রুত এগোতে প্রস্তুত।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায়

এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করে রেখেছে, যার মধ্যে ক্রিমিয়া ও পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অংশ

রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়া মাত্র প্রায়

১.৩ শতাংশ নতুন এলাকা দখল করতে পেরেছে।

ইউক্রেন চায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ভবিষ্যতে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে পশ্চিমা

দেশগুলোর শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।

সিবিহা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অনুমোদনে

প্রস্তুত বলে জানিয়েছে এবং শান্তিচুক্তিকে সমর্থন দিতে একটি ‘ব্যাকস্টপ’ ব্যবস্থা

থাকবে। তবে ইউক্রেনে কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, কিছু দেশ এরই মধ্যে ইউক্রেনে প্রতিরোধমূলক বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুতি

জানিয়েছে, যদিও তিনি তাদের নাম প্রকাশ করেননি।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos