থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ও রক্ষণশীল চেতনার অভাবনীয় জয়জয়কার পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন ভুমজাইথাই পার্টি নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে, যা দেশটিতে বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিয়েছে। সেনাবাহিনী সমর্থিত এবং রাজতন্ত্রের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই দলটির জয় মূলত থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা এবং জাতীয়তাবাদী আবেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ
থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ও রক্ষণশীল চেতনার অভাবনীয় জয়জয়কার
পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের
নেতৃত্বাধীন ভুমজাইথাই পার্টি নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে, যা দেশটিতে
বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিয়েছে। সেনাবাহিনী সমর্থিত এবং রাজতন্ত্রের
অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই দলটির জয় মূলত থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা
এবং জাতীয়তাবাদী আবেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছরের শেষ দিকে
কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, তা ভোটারদের রক্ষণশীল ও
জাতীয়তাবাদী শক্তির দিকে ঝুঁকতে প্রভাবিত করেছে। বিজয়ী দল ভুমজাইথাই পার্টির নেতা
অনুতিন এখন একটি শক্তিশালী জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনার
প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৫০০টি আসনের
মধ্যে ভুমজাইথাই পার্টি প্রায় ২০০টি আসনে জয়লাভ করেছে। যদিও এককভাবে সরকার গঠনের
জন্য প্রয়োজনীয় আসন তারা পায়নি, তবে বৃহত্তম দল হিসেবে জোট গঠনের ক্ষেত্রে তারাই
এখন মূল কারিগরের ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে, সংস্কারপন্থী ‘পিপলস পার্টি’ ১২০টি
আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এই নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল সাবেক
প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ‘ফেউ থাই পার্টি’-র নজিরবিহীন বিপর্যয়। গত
নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার করলেও এবার তারা তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। থাকসিনের মেয়ে
পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায়ে
প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি এই রাজনৈতিক পতনের পেছনে বড় কারণ
হিসেবে কাজ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, থাইল্যান্ডের সাধারণ ভোটাররা এবার বড় ধরনের সংস্কারের
চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পরিচিত অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা
বজায় রাখার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ব্যাংককের থাম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয়ের
অধ্যাপক ভিরত আলীর ভাষ্যমতে, আগামী কয়েক মাস থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী
মেজাজ এবং কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে। নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে
বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে স্থবির হয়ে পড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দেশের ভেতরে
সক্রিয় থাকা বিশাল সাইবার অপরাধ চক্রকে নির্মূল করা। এছাড়া দুর্নীতির দায়ে বর্তমানে
এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করা থাকসিন সিনাওয়াত্রার আগাম মুক্তি বা রাজনৈতিক সমঝোতার
বিষয়টিও আগামী দিনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে,
অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বে থাইল্যান্ডে আবারও একটি স্থিতিশীল কিন্তু রক্ষণশীল
শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে রয়েছে।











