বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গীবত নয়, আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের পুনর্গঠন। প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘব করতে তিনি ঘোষণা দেন, যারা চাকরির জন্য বিদেশে যান, তাদের প্রায়ই জমিজমা বিক্রি করতে হয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যেন এই প্রয়োজন ক্রমশ কমে যায়, এজন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গীবত নয়, আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের পুনর্গঠন। প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘব করতে তিনি ঘোষণা দেন, যারা চাকরির জন্য বিদেশে যান, তাদের প্রায়ই জমিজমা বিক্রি করতে হয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যেন এই প্রয়োজন ক্রমশ কমে যায়, এজন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের ভোট দিয়ে আমাদের দেশে সত্যিকারের পরিবর্তনের সুযোগ করে দিন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার রূপনগরের শ্যামলী ক্লাব মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এই জনসভা আয়োজন করা হয় আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল হকের পক্ষে সমর্থন বাড়ানোর জন্য।
তারেক রহমান আরও বলেন, বিগত ১৬ বছরে দেশে বড় বড় মেগা প্রজেক্ট করা হয়েছে, কিন্তু মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি; বরং দুর্নীতির ঘটনা বেড়েছে। তিনি বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ তাদের সেই অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য ভোট দেবে। আমাদের সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে, যারা দেশের উন্নয়ন ও গণমুখী কল্যাণ নিশ্চিত করবে।
তিনি রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে মানিকদী-বালুঘাট হয়ে জসীমউদ্দীন পর্যন্ত সড়ক ৬০ ফুট প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, আমরা এমন এক ঢাকা শহর গড়তে চাই যেখানে মা-বোনেরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে, শিশুরা খোলা মাঠে খেলাধুলা করতে পারবে, আর সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন।
তারেক রহমান নিজে এই এলাকার সন্তান, শৈশব থেকে এখানে বড় হয়েছেন এবং তার সন্তানদেরও এখানেই জন্ম হয়েছে। এজন্য তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ গভীরভাবে অনুভব করেন। নারী স্বাবলম্বী করার ব্যাপারে তিনি বলেন, নারীর স্বাভাবিক ক্ষমতায়নে দেশের সমৃদ্ধি আনা সম্ভব। এর জন্য তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালুরপ্রস্তাব দেন।
সৌভাগ্যবশত এই আসনের জন্য তিনি জানান, এখানে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে যাতে এলাকাবাসী উন্নত চিকিৎসা সেবা পায়। এছাড়া, বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে প্রত্যেক জেলায় ও ঢাকায় ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে, যুব সমাজের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি খাল খনন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করার কথা বলেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার মাধ্যমে মানুষের সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিশ্রুতি দেন রাজধানীকে একটি নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলবেন, যেখানে অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ নির্মাণ হবে। বলছেন, নির্বাচিত হলে, দেশের অন্যান্য শহর ও ঢাকাকে নিরাপদ, সুন্দর ও বাসযোগ্য শহরে রূপান্তরিত করবেন। তিনি বলেন, খেলার মাঠের সংকট দূর করতে এবং মানুষের বিনোদন ও শারীরিক সুস্বাস্থ্যের জন্য ভবিষ্যতে ঢাকায় অন্তত ৪০টি নতুন খেলার মাঠ তৈরি করা হবে।
দেশ গড়ার জন্য তিনি দেশের মানুষকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি নিজেও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী। ছোটবেলা থেকে এখানেই বড় হয়েছি, আমার পারিবারিক জীবন ও সমস্ত সম্পর্ক এই এলাকায়। তিনি বললেন, এই এলাকার সন্তান হিসেবে ধানের শীষে ভোট দিতে আপনার সবাইকে অনুরোধ করি। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন সবাই বিজয়ী করতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
সবশেষে, তিনি নিজেকে ধানের শীষের একজন প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, আমি ঢাকার পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালমাঠ এলাকার সন্তান। আমার এমন বিশ্বাস, আপনারা সকলে ইনশা আল্লাহ, এই ভোটে বিজয়ী করবেন। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে এই শহরকে আরও সুন্দর ও নিরাপদ করে তুলবেন, যেখানে মা-বোনেরা নিঃসঙ্কোচে হাঁটাচলা করতে পারবে।











