দেশের লাইফ ও নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন ও নবায়ন ফি এখন একেবারেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। সরকার চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই ফি কয়েক গুণ বাড়ানোর। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে ‘বিমা ব্যবসার নিবন্ধন ফি বিধিমালা-২০১২’ সংশোধনের জন্য নতুন গেজেট জারি করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে
দেশের লাইফ ও নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন ও নবায়ন ফি এখন একেবারেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। সরকার চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই ফি কয়েক গুণ বাড়ানোর। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে ‘বিমা ব্যবসার নিবন্ধন ফি বিধিমালা-২০১২’ সংশোধনের জন্য নতুন গেজেট জারি করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিমা কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি হাজার টাকা প্রিমিয়ামের জন্য কোম্পানিগুলোকে পুরনো ১ টাকার পরিবর্তে অনেক বেশি অর্থ দিতে হবে। গেজেট অনুযায়ী, ২০২৬, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে নিবন্ধন ও নবায়ন ফি হবে প্রিমিয়ামের অনুপাতে ২ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ, ধরুন কোনো কোম্পানি এক কোটি টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে, তাহলে পরবর্তী বছরে তাকে ২৫ হাজার টাকা নবায়ন ফি দিতে হবে। ২০২৯, ২০৩০ ও ২০৩১ সালে এই হার升升বে এবং সেগুলি হবে যথাক্রমে ৪ টাকা এবং ২০৩২ সাল ও পরবর্তী সময়ের জন্য ৫ টাকা।’
আইডিআরএ এর আর্থিক বিশ্লেষণ বলছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে তাদের মোট আয় ছিল প্রায় ২৫৫ কোটি ২ লাখ টাকা, এর মধ্যে প্রায় ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আসে বিমা কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন ও নবায়ন ফি থেকে। একই সময়ে সংস্থাটির ব্যয় ছিল ১১ কোটি ২ লাখ টাকা, তার পাশাপাশি আয়কর প্রভিশন হিসেবে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা রাখা হয়। এই অর্থ দিয়ে সংস্থাটির উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ১১ কোটি ১৬ লাখ টাকা, আর ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তাদের মোট তহবিল ছিল ১০৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
বিমা নিয়ন্ত্রণ সংস্থার এই সিদ্ধান্তের পেছনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামীর ব্যয় চারগুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। তাদের মতে, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ, নতুন প্রযুক্তি চালু, জনবল বৃদ্ধি এবং ভবন নির্মাণের জন্য এটি একটি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন-বিআইআইএম, বিসিআইআই, এবং অনান্য পেশাদার সংগঠনগুলোও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিল।
তবে, এই ফি বৃদ্ধির ফলে বিমা খাতের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা থাকছে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, লাইফ ও নন-লাইফ খাতে প্রায় ১৮ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকার গ্রস প্রিমিয়াম সংগ্রহ করা হয়। নতুন এই ফি বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রথম ধাপে কোম্পানিগুলোর জন্য প্রায় ২৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত নতুন ফি দিতে হবে, যা তাদের ব্যয়ে যোগ হবে। যদিও এটি মূলত কোম্পানির নিজস্ব খরচ, তবে এর প্রভাব গ্রাহকদের ওপর পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে যখন বাজারে গ্রাহকের আস্থা এখনও অনেকটাই সংকটজনক, তখন এই বাড়তি ফি বাজারের সম্প্রসারণে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।











