বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে ধানের শীষের জয়জয়কার দেখে একটি অংশ নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। যদি কেউ নির্বাচন বন্ধের চক্রান্ত করে, তখন আমাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। তিনি এটি স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের নীলনকিশোরী ষড়যন্ত্র আমাদের মাথা তুলে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারীর বড় মাঠে এক নির্বাচনী
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে ধানের শীষের জয়জয়কার দেখে একটি অংশ নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। যদি কেউ নির্বাচন বন্ধের চক্রান্ত করে, তখন আমাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। তিনি এটি স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের নীলনকিশোরী ষড়যন্ত্র আমাদের মাথা তুলে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারীর বড় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নয়, বরং পুরো জাতিকে পুনর্গঠন করার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। জনগণের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনাই এর মূল লক্ষ্য। আমরা চাই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য, বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়কে শিল্পে রূপান্তর করতে। এজন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে আমাদের। নীলফামারী জেলা কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই জেলাকে আমরা কৃষি ভিত্তিক শিল্পের হাবে পরিণত করবো।
তিনি আরো বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যদি বিএনপি নির্বাচনী জয় লাভ করে, আমাদের এক অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। পাশাপাশি দ্রুত মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরই আমাদের অঙ্গীকার। ’১৬ বছর স্বৈরতান্ত্রিক শাসনামল কেটেছে, যেখানে স্বৈরাচার নিজের স্বার্থ দেখেছে। এখন আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে আমাদের অঙ্গীকার পথের কাঁটা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
নারীদের প্রতি তারেক রহমান বলেন, নারীদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে। খালেদা জিয়া বিনামূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, আমাদেরও লক্ষ্য নারীদের স্বাবলম্বী করা। প্রত্যেক নারীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবে সরকার, যা দিয়ে প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডও পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সহজে ঋণ নেওয়া যাবে, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণও সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করার কথা তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চল কৃষি নির্ভর। কৃষকদের পাশে থাকব এবং এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকাশে কাজ করব। যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করব। যুগান্তর ও আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। এই প্রচেষ্টায় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
দিনাজপুরের বিরামপুরে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা পুনরায় চালুর অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, আমাদের সরকার গঠন হলে উত্তরাঞ্চলের পানি চাহিদা পূরণের জন্য এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠের জনসভায় নেতাকর্মীরা জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে উপস্থিত হন। সব প্রস্তুতি নিয়ে উপস্থিত হন সাধারণ মানুষও। সেখানে তারেক রহমান দিনাজপুর, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন। যেমন, জগৎবিখ্যাত লিচু ও আম রপ্তানির জন্য হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের ঘোষণা।
উন্নয়নমূলক পরিকল্পনাগুলির মধ্যে রয়েছে, প্রত্যেক গৃহিণী ও খেটে খাওয়া নারীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান, যা থেকে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য থাকবে ‘কৃষি কার্ড’, যা দিয়ে সরাসরি বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে। এই সম্ভাব্য উদ্যোগগুলো দেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা তারেক রহমানের।











