জামায়াত নেতার নির্দেশে ‘ভোটের সিল’ বানানোর স্বীকারোক্তি পূর্বের প্রেস মালিকের

জামায়াত নেতার নির্দেশে ‘ভোটের সিল’ বানানোর স্বীকারোক্তি পূর্বের প্রেস মালিকের

লক্ষ্মীপুরের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে এক তদন্তে ধরেছে অবৈধভাবে ছয়টি জাল ভোটের সিল তৈরি ও ব্যবহার করার ঘটনা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রিন্টিং প্রেসের মালিক সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতের বিচারকের কাছে দেওয়া এই জবানবন্দিতে তিনি তুলে ধরেছেন, ওই সিলগুলো তৈরির মূল নির্দেশদাতা একজন স্থানীয় জামায়াত নেতা।

লক্ষ্মীপুরের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে এক তদন্তে ধরেছে অবৈধভাবে ছয়টি জাল ভোটের সিল তৈরি ও ব্যবহার করার ঘটনা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রিন্টিং প্রেসের মালিক সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা আদালতের বিচারকের কাছে দেওয়া এই জবানবন্দিতে তিনি তুলে ধরেছেন, ওই সিলগুলো তৈরির মূল নির্দেশদাতা একজন স্থানীয় জামায়াত নেতা। প্লেটার হিসেবে পরিচিত সোহেল রানা সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং শহরের পুরোনো আদালত রোডে অবস্থিত ‘মারইয়াম প্রেস’-এর স্বত্তাধিকারী। পুলিশের অভিযানকালে তাঁর প্রেস থেকে উদ্ধার হওয়া সিলগুলো মূলত ভোটের সময় ব্যালটের পরিবর্তে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের পুরোনো আদালত রোডের ওই প্রেসে অভিযান চালানো হয়। সেখানে উদ্ধার হয় ছয়টি জাল সিল, একটি কম্পিউটার এবং একটি মোবাইল ফোন। ওই ঘটনায় সোহেল রানা গ্রেপ্তার হয়। জবানবন্দিতে তিনি জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত নেতা সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফের নির্দেশে তিনি এই সিলগুলো তৈরি করেছেন। ৩০ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপে শরীফ তাকে এই জাল সিল তৈরির নির্দেশ দেন, আর সেই অনুযায়ী সোহেল রানা প্রস্তুত করেন। বর্তমানে শরীফ আত্মগোপনে থাকলেও এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে জামায়াত তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।

উদ্ধার হওয়া এই ভোটের জাল সিলগুলো লোকজনের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে বড় ধরনের নির্বাচনী কারচুপির জন্যই এই ঘটনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তিনি পুগঠনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, অভিযুক্ত নেতাটি ব্যক্তিগতভাবে ভোট গ্রহণের প্রাক্কালে ‘ভোট দেওয়ার প্র্যাকটিস’ বা মহড়া দেয়ার জন্য এই সিলগুলো বানিয়েছিলেন, যা ছিল দায়িত্বহীন কাজ। শুরুতে দল এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও পরে প্রকৃতিটি জানাজানি হলে ওই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহেদ পারভেজ জানিয়েছেন, এই জাল তৈরির পেছনকার প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানা ও পলাতক জামায়াত নেতা শরীফের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ বেশিরভাগ তদন্ত দিক সামনে রেখে কাজ করছে—একটি হলো, এই জাল সিলগুলো ভোটারদের প্রশিক্ষণের আড়ালে হয়তো কারচুপির জন্য ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কি না এবং দ্বিতীয়ত, এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে কেউ আরও প্রভাবশালী বা ষড়যন্ত্রকারী জড়িত আছে কি না। উদ্ধারকৃত আলামতগুলো ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে, এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মূলত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ভোটারদের মধ্যে অস্থিরতা এবং উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos