গাজায় চলমান সামরিক অভিযানে ইসরায়েল প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবার দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াইনারেট নিউজসহ বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে। দীর্ঘ সময় ধরে গাজার স্বাস্থ্য দপ্তর দ্বারা প্রকাশিত নিহতের সংখ্যা নিয়ে
গাজায় চলমান সামরিক অভিযানে ইসরায়েল প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবার দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াইনারেট নিউজসহ বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে।
দীর্ঘ সময় ধরে গাজার স্বাস্থ্য দপ্তর দ্বারা প্রকাশিত নিহতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল ইসরায়েলি সরকার, যদিও জাতিসংঘ এই পরিসংখ্যানকে বরাবরই বিশ্বাসযোগ্য বলে মান্যতা দেয়। প্রথমে তেল আবিব দাবি করেছিল যে, হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, কিন্তু এখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিজেদের হিসাবের ভিত্তিতে নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এই সংঘর্ষে প্রবল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরায়েলি একটি উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাদের নিজস্ব হিসাব অনুসারে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার গাজাবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সংখ্যা নিখোঁজ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি আরও বলেন, এই বিপুল সংখ্যক হতাহতের মধ্যে কতজন সশস্ত্র যোদ্ধা ও কতজন সাধারণ নাগরিক ছিলেন, তা নিরূপণে এখনো সেনাবাহিনী কাজ করছে।
অফিশিয়াল কোন মন্তব্য এখনো দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হলে এটি প্রকাশ করা হবে। এই স্বীকারোক্তি বিশ্বব্যাপী গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতাকে আবারো সামনে এনেছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, গাজায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে, গত অক্টোবরে মধ্যস্থতা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতিতে প্রথমে কিছুটা শান্তি দেখা গেলেও, তারপর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নতুন করে আরও ৪৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।
গাজা কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহতদের বড় একটি অংশই নারী ও শিশু। উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়া বহু ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন, যাঁরা এই নিহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নিহতের নাম, বয়স ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে আসছে।
বর্তমানে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি সেনাদের দ্বারা গাজায় শত শত কবর ধ্বংসের ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে, স্বয়ং ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এই বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে। পাশাপাশি, গাজার ধ্বংসস্তূপের মাঝে আটকা পড়া সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার যথাযথ ব্যবস্থা এখন সবচেয়ে জরুরি।











