অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্ব মঞ্চে লাল-সবুজের জয়জয়কার: নেদারল্যান্ডসকে উড়িয়ে বাছাইপর্ব শেষ বাংলাদেশের

অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্ব মঞ্চে লাল-সবুজের জয়জয়কার: নেদারল্যান্ডসকে উড়িয়ে বাছাইপর্ব শেষ বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের এক অনন্য ও গৌরবজনক ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আজ রবিবার নেপালের কাঠমান্ডুর মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর বাছাইপর্বের সুপার সিক্স ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে তারা উপযুক্তভাবে শিরোপা অর্জন করেছে। এই জয়ে বাংলাদেশ টানা সাতটি ম্যাচে জয়লাভ করল, যা তাদের অপ্রতিরোধ্য

আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটের এক অনন্য ও গৌরবজনক ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আজ রবিবার নেপালের কাঠমান্ডুর মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর বাছাইপর্বের সুপার সিক্স ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে তারা উপযুক্তভাবে শিরোপা অর্জন করেছে। এই জয়ে বাংলাদেশ টানা সাতটি ম্যাচে জয়লাভ করল, যা তাদের অপ্রতিরোধ্য সফলতার একটি প্রমাণ। এই সফলতা, বিশেষ করে বিশ্বকাপের মূল পর্বে সরাসরি পৌঁছানোর জন্য, বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল আত্মবিশ্বাসের উন্মাদনা এনে দিয়েছে। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তারা শীর্ষস্থান ধরে রেখে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ম্যাচের শুরুতেই ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের আগ্রাসী আক্রমণে নেদারল্যান্ডসের ব্যাটাররা চরম ভুগেছেন। বিশেষ করে অভিজ্ঞ অফ স্পিনার নাহিদা আক্তার তাঁর নিয়ন্ত্রিত ও বিষাক্ত বলের মধ্য দিয়ে ডাচ উদ্বোধনী জুটিকে একনিষ্ঠভাবে ভেঙে ফেলেন। চার ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেওয়া নাহিদা দলের জন্য বড় ধাক্কার কারণ হয়ে ওঠেন। বাংলাদেশি বোলারদের দাপটে ডাচরা মাত্র ২৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বেশ বিপাকের মধ্যে পড়ে যায়। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে সানিয়া খুরানা ও রবিনে রাইকের ৭৮ রানের অনবদ্য জুটি বিষয়টি পাল্টে দেয়। সানিয়া ৩৭ বলে ৪৩ এবং রবিনে ৪৫ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন। এই উল্লেখযোগ্য জুটির মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসের সংগ্রহ শেষ হয় ৬ উইকেটে ১০২ রানে।

৯৬ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা ঝামেলায় পড়ে গেলেও সফলতা কামনা করে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আসে। জ্যোতি ৪৪ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন, যা তাঁর ক্রিকেট জীবনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অর্ধশতক। অন্যদিকে, সোবহানা ২৩ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে জয়ের পথ সুগম করে দেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দল মাত্র ১৬.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০৫ রান তুলে জয়ের নিশ্চিত করে।

উল্লেখ্য, বাছাইপর্বে শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলের অসাধারণ পারফরম্যান্স নজরে আসে। গ্রুপপর্বের চারটি জেতার পরে সুপার সিক্সে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তারা এভারেজেও দুর্দান্ত আগ্রাসী ছিল। এই অসাধারণ ইতিহাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট টিম ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে, তারা ২০২৬ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি মূল পর্বে অংশগ্রহণ করবে। পাশাপাশি, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসও সেই স্বপ্নের টিকেট পেয়ে গেছে। চতুর্থ ও শেষ দল হিসেবে কে যাবে, তা নির্ধারিত হবে আজ স্কটল্যান্ড বনাম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ম্যাচের ফলাফলের ওপর। পুরো টুর্নামেন্টে একটিও ম্যাচ হারেনি এই দল, যা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি নতুন সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos