মেলবোর্নে অতিমানবীয় জয়ে প্রথম ফাইনালে আলকারাজ

মেলবোর্নে অতিমানবীয় জয়ে প্রথম ফাইনালে আলকারাজ

মেলবোর্ন পার্কে হয়েছিল ইতিহাসের অনন্য এক লড়াই। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি), মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় কার্লোস আলকারাজ এক অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে প্রবেশ করেন। এই ম্যাচে তিনি দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ধরে অসাধারণ ধৈর্য্য ও সাহসের পরিচয় দিয়ে ৬-৪, ৭-৬ (৫), ৬-৭ (৩), ৬-৭ (৪), ৭-৫ সেটের দীর্ঘ যুদ্ধে আলেকজান্ডার

মেলবোর্ন পার্কে হয়েছিল ইতিহাসের অনন্য এক লড়াই। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি), মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় কার্লোস আলকারাজ এক অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে প্রবেশ করেন। এই ম্যাচে তিনি দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ধরে অসাধারণ ধৈর্য্য ও সাহসের পরিচয় দিয়ে ৬-৪, ৭-৬ (৫), ৬-৭ (৩), ৬-৭ (৪), ৭-৫ সেটের দীর্ঘ যুদ্ধে আলেকজান্ডার জভেরেভকে পরাজিত করেন। এটি শুধুই এক জয়ের গল্প নয়; এটি ছিল একটি কিংবদন্তির জন্মের গল্প।

পরের দিন গড়ার জন্য, টুর্নামেন্টের একঘেয়েমি কাটিয়ে দিয়ে আলকারাজ দীর্ঘতম সেমিফাইনাল ম্যাচের পাণ্ডুলিপি লিখে গেছেন। ম্যাচের প্রথম দুই সেটে দাপট দেখালেও, তৃতীয় সেটের মাঝামাঝি সময়ে পেশীতে টান লাগা এবং বিরতির সময় অসুস্থতার কারণে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে টিভি সম্প্রচারকারীরা হতবুদ্ধি হয়, এক সময় মনে হয়েছিল ম্যাচ চালিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। আলকারাজ মেডিকেল টাইম-আউটের জন্য বললে জভেরেভ ক্ষুব্ধ হয়ে আম্পায়ারকে বলেছিলেন, ‘অবিশ্বাস্য, ওকে এভাবে খেলার সুযোগ দেওয়া!’

চতুর্থ সেটের সময় প্রচণ্ড যন্ত্রণার মধ্যেও হাসি মুখে লড়াই চালিয়ে যাওয়া আলকারাজ দর্শকদের বিস্মিত করে। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম সেটে জভেরেভ ৪-২ গেমে এগিয়ে থাকলেও, আলকারাজের অদম্য মনোভাব সব কিছুই পাল্টে দেয়। ৩-২ গেমে জভেরেভের সার্ভিসে একটি অসাধারণ ফোরহ্যান্ড রিটার্ন ব্রেক পয়েন্টের মাধ্যমে তিনি ক্ষণস্থায়ীভাবে ঝুঁকি নিয়েছেন। এরপর, দ্রুত ৬-৫ গেমে এগিয়ে গিয়ে নিজস্ব সিগনেচার রানিং ফোরহ্যান্ড শটে জভেরেভকে স্তব্ধ করে জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচ শেষে, ক্লান্তি ভেঙে আলকারাজ বলেন, ‘শারীরিকভাবে এটি আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন ম্যাচ ছিল। আমাকে স্রেফ হৃদয় নিংড়ে লড়াই করতে হয়েছে।’

আলকারাজের এই অসাধ্য সাধনের পেছনের মূল শক্তি ছিল তাঁর বিশ্বাস। তিনি বলেছিলেন, ‘বিশ্বাস! বিশ্বাস!’ যদি তিনি রোববার ফাইনাল জেতেন, তা হলে তিনি ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যান্ড স্লাম জেতা খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বেন। এর আগে, তিনি তার ক্যারিয়ারে ১৫টি পাঁচ সেটের লড়াইয়ে ১৪টি জয় অর্জন করেছেন, যা ক্রিকেটের ইতিহাসের স্মরণীয় কীর্তি। এই গল্পটি আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম ও সাহসের এক অনুপ্রেরণাময় উদাহরণ। আজ সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো এই স্প্যানিশ তারকার জীবনে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos