নরসিংদী সদর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন একটি বিশাল নির্বাচনী জনসভার মাঝে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম কঠোরভাবে জামায়াতে ইসলামীর মূলনীতি ও কার্যক্রমের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত প্রকাশ্যে নানা কথা বলে থাকলেও গোপনে ভারতের ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। রেজাউল করীম প্রশ্ন তোলেন, যদি বৈঠকই হতো
নরসিংদী সদর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন একটি বিশাল নির্বাচনী জনসভার মাঝে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম কঠোরভাবে জামায়াতে ইসলামীর মূলনীতি ও কার্যক্রমের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত প্রকাশ্যে নানা কথা বলে থাকলেও গোপনে ভারতের ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। রেজাউল করীম প্রশ্ন তোলেন, যদি বৈঠকই হতো তাহলে কেন তা গোপন রাখা হচ্ছে? এই দ্বিধাদ্বন্দ্বপূর্ণ আচরণকে তিনি ‘ডাল মে কুচ কালো হে’ বা সন্দেহজনক বলে অভিহিত করেন এবং দেশের সাধারণ মানুষ এখন এসব জিনিস বোঝার ক্ষমতা অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। যারা একবার এই সুযোগ পেয়েও দেশের শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা এখন কীভাবে উন্নয়ন করবে তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। রেজাউল করীম বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখন আর দোষারোপে বা ধোঁকায় বিভ্রান্ত হবে না, তারা বুঝতে শিখেছে।
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি চেয়েছিলেন দেশের স্বার্থে একটি ঐক্যবদ্ধ ইসলামি শক্তি বা ‘ইসলামী ব্লক’ গঠন করে দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কাজ চালানো। তবে নেতাদের নীতিগত দ্বন্দ্বের কারণে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে পারেনি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এককভাবে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষমতালোভী ব্যক্তি ইসলামকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছেন, অথচ বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যবস্থাই দেশ চালানোর অন্যতম ভিত্তি। ৫৪ বছর ধরে যে আইনের মাধ্যমে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেই একই আইনে নতুন করে এক ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিকে তিনি একটি রাজনৈতিক ধোঁকা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে রেজাউল করীম বলেন, যারা দেশকে এবং ইসলামকে সত্যিই ভালোবাসেন, তারা যেন একত্রিত হয়ে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের সূচনা করেন। তিনি মনে করেন, এখন আর চুপ থাকা সময় নয়—প্রগতি ও উন্নয়নের জন্য হাতপাখিই একমাত্র পথ।
জনসভাটি নরসিংদী-১ আসনের প্রার্থী ও জেলা সভাপতি আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী ছাইফুল্লাহ প্রধান, নরসিংদী-৩ আসনের ওয়ায়েজ হোসেন ভূঁইয়া, নরসিংদী-৫ আসনের বদরুজ্জামান সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এই সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। মূলত জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শের ভিন্নতা তুলে ধরেই চরমোনাই পীর তার বক্তব্যের অধিকাংশ অংশ ব্যয় করেছেন।











