নির্বাচন নস্যাৎ করতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে এক মহল

নির্বাচন নস্যাৎ করতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে এক মহল

বিএনপিরচেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৬ বছরে আমরা অনেক ধরনের নির্বাচন দেখেছি। কখনো নিশিরাতের নির্বাচন, কখনো ডামি বা ভোটপত্রের গায়েবি নির্বাচন—সবই দেখেছি যেখানে দেশের মানুষ ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা এখন চলে গেছে। তবে আরও একটি মহল বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, তারা অন্তর-বিরঙ্গে পরিকল্পনা করে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত

বিএনপিরচেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৬ বছরে আমরা অনেক ধরনের নির্বাচন দেখেছি। কখনো নিশিরাতের নির্বাচন, কখনো ডামি বা ভোটপত্রের গায়েবি নির্বাচন—সবই দেখেছি যেখানে দেশের মানুষ ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা এখন চলে গেছে। তবে আরও একটি মহল বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, তারা অন্তর-বিরঙ্গে পরিকল্পনা করে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য নানা কৌশল নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথাগুলো বলেন। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে যেন কেউ চক্রান্ত করে ভোটের সমাধি ঘটাতে না পারে।”

তারেক রহমান দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে এই সমাবেশের ভাষণ শুরু করেন। তিনি দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীর সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ঘটানোর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে তার গভীর আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। শোনা যায়, তখন থেকে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের করতালি ও উল্লাসে সিক্ত হন।

তিনি জানিয়েছেন, রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য আইটি পার্ক চালু করে তরুণদের দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। ভবিষ্যতের জন্য সম্প্রসারিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করবেন।

ভাষণে তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর সুনাম ফিরিয়ে আনতে, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে চান। উচ্চশিক্ষিত যুবকদের জন্য আইটি ভিলেজের উন্নতি, বিএমডিএ চালু, ধানের উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি করা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কৃষিঋণ মসৃণভাবে বিতরণের উপর গুরুত্ব দেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ বিজয়ী হলে এসব উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ। সাধারণ সম্পাদক মাফজুর রহমানের সঞ্চালনায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা মঞ্চে বক্তব্য দেন। তারেক রহমান দুপুরে রাজশাহীতে প্রবেশ করে হন, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন স্কুল মাঠে উপস্থিত হন। প্রেস নোটে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়।

তিনি বলেন, আমি ২০০৪ সালে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে কম্বল, ছাগল বিতরণ করে থাকি, যা থেকে আমার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। কৃষকদের জন্য আলাদা পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রত্যেক কৃষককে একটি কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সার, বীজ ও কৃষিঋণ সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছাবে। তিনি আরও জানান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

তিনি নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দানের ঘোষণা দেন, যার মাধ্যমে তারা সংসারের খরচ সামাল দিতে পারবেন। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি বিষয়ে তিনি বলেন, রাজশাহীতে থাকা আইটি পার্ককে সচল করার উদ্যোগ নিতে চাই, যেখানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে তোলা হবে। দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার প্রবণতাও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই জন্য, রাজশাহীতে আধুনিক হাসপাতালে সুবিধা বাড়ানো হবে।

সামনের দিনগুলোতে, জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য তিনি আশ্বাস দেন, ‘আমরা দেশের পরিবর্তনের জন্য এই ত্যাগের মূল্য বুঝি। ১৬-১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার হরণ অব্যাহত রয়েছে। সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, ১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সফল হলে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। সব ধর্ম-বর্ণ থেকে মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই আমাদের লক্ষ্য।

তারেক রহমান বলেন, ‘নিশিরাতের নির্বাচন, গায়েবি নির্বাচন—এসব আমরা দেখেছি। জনগণের ভোটাধিকার যারা কেড়ে নিয়েছিল, তারা এখন চলে গেছে। কিন্তু এখন অন্তঃস্থল ও ভেতরে ষড়যন্ত্র চলছে, যা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে। ১২ তারিখের নির্বাচনে কেউ যেন কোনো চক্রান্তে না পড়ে, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যদি সবাই সচেতন থাকেন, সেই দিনই শুরু হবে জনগণের সত্যিকারের দিন। বিএনপি বিজয়ী হলে, ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনস্বাধীনতার জয়যাত্রা।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সঠিক তদন্তের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যেখানে ঘটনাগুলোর সত্যতা প্রমাণ হবে, সেখানেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যদি ভুল করে থাকেন, আমাদের সহযোগিতাও করব, তবে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।’

দ্বিতীয়ত, তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৬-১৭ বছরে দেশের ভেতরে চালানো বড় বড় প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল দূর্নীতি ও চুরি। এসব প্রকল্পে ধানের শীষের বিজয় হলে, প্রতিশ্রুতি দেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা হবে—সড়ক, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবোটাই মানসম্মতভাবে চালানো হবে।

বক্তব্য শেষে, তারেক রহমান রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধানের শীষের ১৩ প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনাদের কাজ হচ্ছে, ১২ তারিখের আগে এঁদের পর্যবেক্ষণ রাখা। ১৩ তারিখ থেকে তারা আপনাদের সেবা করবে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos