ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আমরা নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তর করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর বাসাবোতে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন তিনি। এই সভা অর্থাৎ গ্রহীত ভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে কেন্দ্রিক ছিল, যেখানে প্রধান অতিথির
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আমরা নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তর করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর বাসাবোতে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন তিনি। এই সভা অর্থাৎ গ্রহীত ভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে কেন্দ্রিক ছিল, যেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং খ্রিষ্টানধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট যৌথভাবে অংশ নেয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমা, প্রধান উপদেষ্টা তার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার এবং ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
খুলে বলতে গিয়ে ড. খালিদ আরও বলেন, ‘একবার ক্ষমতায় বসে গেলে অনেকেই নানা ছল চাতুরী করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকেন। কিন্তু আমি ও আমার সহকর্মীরা এই দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি বিদায় দেওয়ার। ইতোমধ্যে আমাদের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্টও সুরে রেখেছেন।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা মানসিকভাবে খুবই প্রস্তুত আছি; একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করব।’
তিনি সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য জনমত সৃষ্টি করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে আমাদের ইতিহাসের এক মাইলফলক নির্বাচন। যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলাফল আসে, তবে দেশের আর কখনো স্বৈরতন্ত্রের দিন আসবে না। দেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারব।’
প্রধান উপদেষ্টা তার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি যখন ভোট দিতে যাচ্ছেন, তখন আপনাকে দুটি ব্যালট দেওয়া হবে। একটি সাদা, অন্যটি গোলাপি। সাদা ব্যালটে আপনি যে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন, তা নির্ধারণ করবে আপনার বিবেচনা। আর গোলাপি ব্যালটে থাকবেন দেশ পরিচালনার জন্য আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির গাইডলাইন।’ তিনি আরও বলেন, ‘অতএব, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেতে সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।’
প্রধান উপদেষ্টা তার সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু গত ৫৪ বছরে আমরা এই লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারিনি। বিভিন্ন সময়ে অশুভ শাসনের কবলে পড়ে আমাদের দেশ বন্ধ হয়ে গেছে। কখনো সংবিধানকে অমান্য বা কুরুচিপূর্ণভাবে ব্যবহার করে নিরীশ্বর শাসন চালানো হয়েছে। তাই আমাদের একটি সুন্দর, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রমনার সেন্ট মেরীস্ ক্যাথেড্রাল চার্চের প্রধান পালক ফাদার আলবার্ট টমাস রোজারিও, বৌদ্ধধর্মীয় ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া ও খ্রিষ্টানধর্মীয় ট্রাস্টের ট্রাস্টি পিউস কস্তা সহ আরও অনেকে।











