জামায়াতের আমির: ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ জয়ী হবে

জামায়াতের আমির: ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করলে দেশ জয়ী হবে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যদি সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য নিশ্চিতভাবে কাজ করে, তাহলে এখনকার বাংলাদেশের জন্য একটি সহজ জয় অপেক্ষা করছে। তিনি মন্তব্য করেন, গত ৫৪ বছর ধরে যারা দেশ শাসন করেছে, তারা নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। দেশের সার্বিক ইনসাফের অভাব হয়েছে, তরুণ প্রজন্ম মাদকাসক্তি ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যদি সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য নিশ্চিতভাবে কাজ করে, তাহলে এখনকার বাংলাদেশের জন্য একটি সহজ জয় অপেক্ষা করছে। তিনি মন্তব্য করেন, গত ৫৪ বছর ধরে যারা দেশ শাসন করেছে, তারা নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি। দেশের সার্বিক ইনসাফের অভাব হয়েছে, তরুণ প্রজন্ম মাদকাসক্তি ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমাদের মায়া হয় তাদের জন্য।

রোববার দুপুরে পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সভা আয়োজিত হয় জামায়াতের মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আবদুল মান্নানের পক্ষে। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন জামায়াতের আমির।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা বেকারত্বের জন্য ভাতা দিতে চাই না। দেশের অর্থ থাকলেও তা দিয়ে বেকারদের ভাতা দেব না। বরং, আমরা চাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কাজের মাধ্যমে দেশের যুবকদের এগিয়ে নেওয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তরুণদের শক্তি দিয়েই দেশ এগিয়ে যাবে, এজন্যই যুবকদের সক্ষম করে তুলতে কাজ করা হচ্ছে।

জামায়াতের আমির জানান, যদি দায়িত্ব পায়, তিনি চাইবেন দেশটি যেন ফুলের মত সুন্দর সাজানো হয়, যেখানে প্রত্যেক মানুষ গর্ববোধ করবে। তিনি বলেন, আমরা চাঁদাবাজি করব না, দুর্নীতি করব না, বরং এ সব অপকর্মের প্রশ্রয় দিব না। চূড়ান্তভাবে তিনি বলেন, মানুষের ভোটের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট, কারা ভোট দেবে সেটাও তারা বুঝে গেছে।

ভোট কারচুপির বিষয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোটের অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যদি ভোট দখল করতে চায়, তাহলে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে।

বক্তব্য শেষে জামায়াতের আমির ড. আবদুল মান্নানের হাতে দলীয় প্রতীকের দাঁড়িপাল্লা ও প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা নষ্ট রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে কাজের রাজনীতি বাস্তবায়নের সময় এসেছে। তিনি সন্ত্রাসমুক্ত নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথাও তুলে ধরেন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের জোটপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছিলেন, জনগণের হাতে এখন সংস্কারকার্য্যকে পরিচালনার চাবিকাঠি। গণভোটের মাধ্যমে অনেকের স্বপ্ন ভেঙে দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

প্রার্থীরা চাঁদাবাজি, জমিদারীসহ বিভিন্ন সংকটের দায়ে রাষ্ট্রের গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে বলেন, ১২ তারিখে অপরাধীদের বিচার ও অপতৎপরতা রোধের জোরালো আহ্বান জানানো হয়।

ড. আব্দুল মান্নান পুরান ঢাকার জনগণের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এখানে চাঁদাবাজির ব্যাপক রাজত্ব প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তিনি জামায়াত আমিরের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনি যদি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান, তাহলে ঢাকা-৬ আসনটি চাঁদাবাজ মুক্ত করে সমৃদ্ধ করবেন। জনগণের এই প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া, সভায় লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ বলেন, নতুন বাংলাদেশে গরিব-ধনী বৈষম্য থাকবে না। তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, যারা দালালি করছে না, এমন মানুষদের ভোট দিন।

জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা, যারা নির্বাচনী প্রচারনায় সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos