সুতার আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তে শংকা ও অসন্তুষ্টি পোশাক শিল্পীদের

সুতার আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তে শংকা ও অসন্তুষ্টি পোশাক শিল্পীদের

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় নির্দিষ্ট ধরনের সুতার শুল্কমুক্ত আমদানির ক্ষেত্র বন্ধের প্রস্তাব খসচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো, কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের মধ্যে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে উৎপাদন খরচ বাড়বে ও দেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা এই

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার আওতায় নির্দিষ্ট ধরনের সুতার শুল্কমুক্ত আমদানির ক্ষেত্র বন্ধের প্রস্তাব খসচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো, কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের মধ্যে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে উৎপাদন খরচ বাড়বে ও দেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ‘যদিও পোশাক রপ্তানিকারীরা বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলোর সুতার একমাত্র ক্রেতা, তবুও এই ধরনের স্পর্শকাতর ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পোশাক শিল্পের স্বার্থকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ট্যারিফ কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন আমাদের মতামত বিবেচনা না করেই একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সেফগার্ড চুক্তির ৩ ও ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, আমদানির আগে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পের গুরুতর ক্ষতি প্রমাণ করতে হয়, যা এখানে বলবৎ হয়নি। এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা নীতিগতভাবে সন্দেহজনক।’

প্রধানত দেশীয় সুতাকলগুলোকে সুরক্ষা দিতে সরকার এই বন্ডের সুবিধা প্রত্যাহার করেছে বলে উল্লেখ করেন সেলিম রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, স্পিনিং মিলগুলোর জন্য এখন দরকার নিজের সক্ষমতা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতার আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির উন্নয়ন। বরং সরকারের উচিত সরাসরি প্রণোদনা প্রদান বা অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা।’

সেলিম রহমানের আশঙ্কা, শুল্ক আরোপের ফলে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতোমধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম অর্ধবছরে (জুলাই-ডিসেম্বর) পোশাক রপ্তানি গতিবিধি ২.৬৩ শতাংশ কমেছে। শুধু ডিসেম্বর মাসে কমেছে ১৪.২৩ শতাংশ। দাম বেশি হলে ক্রেতারা ক্রয় কমিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রভাব ফেলবে রপ্তানিকারকদের উপরে।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ যৌথভাবে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে। তারা আরও বলেছে, যদি বস্ত্র শিল্পকে সুরক্ষিত করতে হয়, তাহলে সরাসরি নগদ সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনাই দৃষ্টান্ত হতে পারে।

এছাড়াও, জ্বালানি ও বিদ্যুতের নিশ্চিত সরবরাহ, জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানিমুখী সুতার উৎপাদনকারীদের করের ছাড়, এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে স্পিনিং মিলের উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি শিহাব উদদৌজা চৌধুরী, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান ও অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos