এলপিজি আমাদানি ও বিক্রি: ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্তে ধর্মঘট প্রত্যাহার

এলপিজি আমাদানি ও বিক্রি: ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্তে ধর্মঘট প্রত্যাহার

রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিতে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। এই বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। গত কয়েক দিন ধরে সরবরাহ সংকট, কারসাজির অভিযোগ এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলাকালে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড

রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিতে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। এই বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। গত কয়েক দিন ধরে সরবরাহ সংকট, কারসাজির অভিযোগ এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলাকালে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড কিছুদিনের জন্য সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রেখেছিল। তবে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে ফিরতে শুরু করেছে। মূলত শীত মৌসুমে এলপি গ্যাসের বাড়তি চাহিদা ও সরবরাহের অসুবিধা মোকাবেলায় এই পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। এর ফলে, এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সংগঠনটি সারা দেশে দীর্ঘ সময়ের জন্য ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান সাংবাদিকদের বলেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান ধর্মঘত এবার শেষ ঘোষণা করা হলো। বৈঠকে স্থানীয় প্রশাসনের অভিযান বন্ধ, বিতরণকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের চাজ বাড়ানো এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য দাবি তোলা হয়। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। তিনি আরও বলেন, জাহাজ সংকটের মধ্যেও পণ্য আমদানির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ফলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহের কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরে আসতে পারে। অন্যদিকে, সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপারেটরদের কাছ থেকে সিলিন্ডার কিনতে তাদের অতিরিক্ত ১ হাজার ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে, তাই দামে কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বিইআরসি এর চেয়ারম্যান বলেছেন, জানুয়ারির জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার বেশি দামে পণ্য বিক্রি করাই সংগত মনে হচ্ছে না। উল্লেখ্য, এর আগে ডিসেম্বরে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এলপি গ্যাসের আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে, স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট ও আগাম কর থেকে অব্যাহতির বিষয়গুলো আলোচিত হয়। তবে, লোভাব সদস্যরা প্রস্তাব করেছিলেন, আমদানি পর্যায়ে ভ্যাটের পরিবর্তে শূন্য শতাংশ ভ্যাট আরোপ করতে। চিঠিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিতে ১০ শতাংশের নিচে ভ্যাট আরোপ এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ও আগাম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনবিআরকে অনুরোধ জানানো হয়। তবে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম কতটা কমবে, তা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা ও সমন্বিত বিবেচনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos