এনবিআর এর বড় সাফল্য: ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন ভ্যাট নিবন্ধন

এনবিআর এর বড় সাফল্য: ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন ভ্যাট নিবন্ধন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের ভ্যাট탚জালের বিস্তৃতি ঘটাতে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। গত ডিসেম্বর মাসে, এনবিআর দেশব্যাপী পরিচালিত বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মোট ১ লক্ষ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় এনে দেশের কর রাজস্ব সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা হয়েছে। এই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিবন্ধন কার্যক্রম ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ‘ভ্যাট দিবস’ এবং ১০ থেকে ১৫

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের ভ্যাট탚জালের বিস্তৃতি ঘটাতে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। গত ডিসেম্বর মাসে, এনবিআর দেশব্যাপী পরিচালিত বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মোট ১ লক্ষ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় এনে দেশের কর রাজস্ব সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা হয়েছে। এই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিবন্ধন কার্যক্রম ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ‘ভ্যাট দিবস’ এবং ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পালিত ‘ভ্যাট সপ্তাহ’ এর সময়সূচিতে সম্পন্ন হয়। এ সময়ে এনবিআর ‘সময়মত নিবন্ধন করুন, সঠিকভাবে ভ্যাট দিন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১ লক্ষের বেশি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সম্পন্ন করে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট প্রতিদিনই বিশেষ জরিপ ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে এই ধারা অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে, বর্তমানে দেশে মোট ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লক্ষ ৭৫ হাজারে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগে ছিল মাত্র ৫ লক্ষ ১৬ হাজারে। এই অর্ধেকের বেশি বৃদ্ধিতে দেশের রাজস্ব আয় জোরদার হয়েছে।

ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর বর্তমানে দেশের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত অর্থবছরে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এর সংগ্রহকৃত মোট শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কের মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশই আসে ভ্যাটের মাধ্যমে। এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন ধরণের গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাট আইনে সংশোধনী এনেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, আগে যেখানে কোনও প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৩ কোটি টাকা হলে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ছিল, সেখানে এটি কমিয়ে ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অনেকে এখন সহজেই ভ্যাটের আওতায় আসছে, যা দেশের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী বিকাশে সাহায্য করবে।

এছাড়াও, ভ্যাট ব্যবস্থাকে অধিকতর স্বচ্ছ, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করতে এনবিআর ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকতর করেছে। এখন থেকে উদ্যোক্তারা ‘ই-ভ্যাট’ (eVAT) সিস্টেমের মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সহজে ভ্যাট সংগ্রহ এবং সরাসরি ব্যাংকে জমা দিতে পারে, এজন্য অটোমেটেড রিফান্ড সুবিধাও চালু হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়াটিও সহজতর করা হয়েছে। এক কথায়, এই উদ্যোগগুলো দেশের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সমৃদ্ধির পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে এনবিআর। দেশের ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকরা সরকারের এই সকল উদ্যোগের প্রতি সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, যাতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও যথাযথ গতিতে এগিয়ে চলতে পারে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos